জন্ডিস বা পান্ডু রোগ- Jundice

 জন্ডিস বা পান্ডু রোগ- Jundice

ডা: এ,এন,এ,হোসেন-এমবিবিএস

জন্ডিস বা পান্ডু রোগ- Jundice
জন্ডিস
যকৃতের সর্বপেক্ষা উল্লখযোগ্য ব্যাধিলক্ষণ জন্ডিস বা কামলা। রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন জমা হইয়া পান্ডু রোগের সৃষ্টি হয়। বিলুরুবিনের স্বাভিক মাত্রা 0.2- 0.8 মিলিগ্রাম। এ মাত্রা 2 মিলিগ্রামের উপরে উঠলে চোখের সাদা অংশ হলুদ রং হয়। লক্ষ করিলে দেখা যায় জিহব্বার নীচের শৈষ্লিক ঝিল্লীও হলুদ হইয়া গিয়াছে। সর্বশেষ শরীরের চামড়াও হলুদ বর্ণ ধারন করে।

যকৃতে পিত্ত তৈরি হয়। অতঃপর ইহার কিছু অংশ গলব্লাডার নামক পিত্তকোষ জমা হয় এবং পিত্তবাহী নলের ভিতর ডিওডেনামে আসে। ইহা আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য কে হজম করিতে সাহার্য্য করে। আবার গুরুপাক জাতীয় খাদ্যকে হজমে সহায়তা করিবার জন্যে পিত্তকোষের কিছু পিত্ত ক্ষুুদ্রারান্ত্রে যায়। কোন কারনে পিত্তনালী বন্ধ হইয়া গেল উহা ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌছাতে না পারায় ধীরে ধীরে রক্ত মিশ্রিত হয় এবং শরীরের বর্ণও তখন হলুদ রং ধারন করে। এই অবস্থায় ডিওডেনামে ভুক্ত খাদ্য দ্রবের সহিত পিত্ত মিশ্রিত না হইবার ফলে চর্বি জাতীয় খাদ্য হজম করিতে পারে না। তখন মলের রং স্বাভিক না হইয়া মেটে রং ধারন করে। এমনি ভাবে নানা কারনে পিত্তরস রক্তের সহিত দেহে শোষিত হইয়া কন্ডিস রোগ সৃষ্ট করে।

জন্ডি রোগের প্রকার বা ধরণ

জন্ডিস রোগকে কারন অনুসারে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

১। অবস্ট্রাকটিব জন্ডিসঃ পিত্ত চলার পথে বাধা পাইলে উহা নিঃসরণ হইতে পারে না কিংবা পিত্তডেনামে পৌছাতে পারে না।  তাই ইহা আবার  যকৃতে ফিরিয়া গেলে জন্ডিস রোগ সৃষ্টি হয়।  ধীরে ধীরে সারা শরীরে হলুদ রং  ধারন করে।

কিভাবে অবস্ট্রাকটিব জন্ডিস সৃষ্টি হয়ঃ

ক) পিত্তনলে বাধা পাইয়াঃ পিত্তকোষে পাথর হইয়া পিত্তনালীর পথ বন্ধ হইয়া গেলে জন্ডিস রোগ হয়।

খ) পিত্তনালীর গাত্রে ক্ষত হইয়া পিত্তনালীর পথ শুরু হইয়া যায়। তাই পিত্তরস ঐ সরুপথে যথাযথভাবে যাইতে পারে না বলিয়া জন্ডিস রোগ সৃষ্টি হয়।

গ) পিত্তনালীর বাহীরে চাপ সৃষ্টি হইলেঃ

পিত্ত রসের ঘনত্ব বাড়িয়া বা পাথুরী বা কিভার বা পাকস্থলীতে টিউমার হইয়া পিত্তনালীর উপর চাপ সৃষ্টি করিলে পিত্তনালীর পথ বন্ধ হইয়া যায়, ফলে জন্ডিস রোগের উৎপত্তি হয়। হেপাটাইটিজ, সিরোসিস অব লিভার, কন্সার অব লিভর প্রভৃতি রোগে পিত্তনালীর পথ বন্ধ হইয়া যাইতে পারে।

২। হেমোলাইটিক জন্ডিস( রক্ত কণিকা ধ্বংস জনিত জন্ডিস)ঃ ম্যালেরিয়া, ব্লাকওয়াটার ফিভার, প্রভৃতি রোগে লোহিত রক্ত কণিকা নষ্ট হইলে পিত্ত বেশী সৃষ্টি অর্থাং বিলিরুবিন রুপে সাধিত হয় এবং জন্ডিস আকরান্ত হয়। লোহিত কোনিকা বিনাশজনিত জন্ডিসের কারন রক্তবাহী নলের অভ্যন্তরে লোহিত কোনিকার অতিরিক্ত ভাংগন। বিনাশ প্রাপ্ত লোহিত কোনিকা থেকে যে স্বাভিক পরিমাণ পিত্তক রঞ্জক যকৃতে এসে পড়ে, যকৃতের কোষ তাদের নিয়ে পরে উঠে না এবং এর ফলে পানিতে অদ্রবণীয় অসংযোজিত  বিলিরুবিন রক্তস্রতে প্রবেশ করে। এই বিলিরুবিন পানিতে অদ্রবনীয় বলেই রক্তের ফিল্টার পার হতে পারে না  এবং রোগীর প্রসাবে বিলিরুবিন রঞ্জক থাকে না।

৩। ইনফেকটিব জন্ডিসঃ ইহা একিউকিট ইনফেকটিব হেপাইটিজ বা এপেডেমিক জন্ডিস বা হিপাটেসুলার জন্ডিস নামে পরিচিত। অনেক জীবানু বা ভাইরাজ দ্বারা কিংবা কতোগুলি ঔষধে লিভারের উপর বিষক্রিয়ার ফলে পিত্তনালীর পথ বন্ধ হইয়া গেলে জন্ডিস রোগ উৎপত্তি হয়।

জন্ডিস রোগের লক্ষণ

১। আকরান্ত বক্তির শরীর, চোখ, বুক, পেট, হাতের তালু ইত্যদি হলুদ রং ধারণ করে। পেট হতে নাভী পর্যন্ত ব্যথা ও শরীরে তাপ থাকে।

২।  প্রসাবের রং গরুর চোনার মোত হয়। 

৩। জ্বর হয়,বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, বদহজম, ক্ষুুদা না লাগা, পেটে বায়ু সঞ্চায় প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

8। কখনো বা কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে, আবার কখনো পাতলা পায়খানা হয়। 

৫। ঘুম কম হয়।

৬। জন্ডিস বৃদ্ধি পাইলে গা চুলকায়, অনিদ্রা হয়, মুখে দুর্গন্ধ হয়। 

৭। লিভারে ব্যথা হয় এবং উহা বাড়িয়া যায়। 

৮। পিত্ত নির্গমনের পথে বাধা পাইয়া জন্ডিস হলে মলের রং মেটো হয়।

জন্ডিসের পরীক্ষা

1. Serum Bilurobin

2. Blood for C/P

3. Urine/R/M/E

উক্ত পরীক্ষা ৩ টি করলে বোঝা যাবে জন্ডিস হয়েছে কি না।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যাবস্থা

১। গ্লুুকোজের সরবৎ ও প্রচুর আখের রস খাইতে দিতে হবে, তবে জ্বর থাকিলে পথ্যের মধ্যে রদবদল করিতে হইবে।

২। দূষ্পাচ্য সবরকম খাদ্য ও মশলাযুক্ত খাদ্য খাওয়া যাইবে না।

৩। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হইবে যতদিন রোগ মুক্ত না হয়।

8। অরুচি বা জ্বর না থাকলে Vitamin-B, ও Vitamin-C খাইতে দিতে হবে, অন্য কোন ঔষুধের প্রয়োজন নেই।

৫। অ্যলকোহলে আসক্ত রোগীদের জন্য ১ বছর অ্যলকোহল খাওয়া যাইবে না বা আজীবন বন্ধ রাখা ভাল।

৬। ঘুমের ঔষুধ, বমির ঔষুধ, প্যারাসিটামল, কো-ট্রাইমোক্সাজল, টি বি বিরোধী ঔষুধ খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আরো পড়ুন...


আরো জেনে নিন👇

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারন কি?

ডায়ালাইসিস রোগির খাদ্য ও পুষ্টি

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে কত টাকা লাগে

উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়?

চোখ উঠা রোগের কারন কি?

কালা জ্বর কি?









মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইন্টেসটিন্যাল টি, বি, জনিত ডায়ারিয়া Diarrhoea from T. B. of Intestine)-Bangla News-2023

হিরো আলম- "Hero Alom" Human of the bangladesh-বাংলা নিউজ-2023

অন্ত্রের প্রদাহ/ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র প্রহাহ/ননস্পেসিফিক আলচারেটিভ কোলাইটিস (Enteritis and Colitis)- বাংলা নিউজ-২০২৩