হেমোডায়ালাইসিস রোগীর খাদ্য ও পুষ্টি নির্দেশনা

হেমোডায়ালাইসিস রোগীর খাদ্য ও পুষ্টি নির্দেশনা

অধ্যপক ডাঃ আইয়ুব আলী চৌদুরী, বিভাগীয় প্রধান, নেফ্রোলজী বিভাগ-NIKDU- Jun 2017.

ডায়ালাইসিস রোগিসের খাদ্য
ডায়ালাইসিস রোগিদের জন্য খাদ্য
হেমোডায়ালাইসিস রোগীর খাদ্য  নির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। ডায়ালাইসিস শুরুতে রোগীর ইউরেমিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে পুষ্টি সমস্যার উন্ননতির খেয়াল রাখতে হবে। ডায়ালাইসিসের কারনে রোগীর পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। ডায়ালাইসিস অবস্থার উন্নতি হওয়া সত্বেও পুষ্টিহীনতার ব্যপারটি এখনো অনেক সময় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় না।

ক্যালরি/শক্তি

হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরে নাইট্রোজেন এর অনুপাত সামঞ্জস্যাাপূর্ণ রাখার জন্য প্রতিদিন ৩৫ কিলো ক্যালরি/ কেজি খাদ্য গ্রহন করতে হবে। খাবারের অরুচি, বমিভাব প্রভৃতির কারনে অনেক রোগী পার্যপ্ত ক্যলরি গ্রহন করতে পারে না ফলে অপুস্টি ও দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। ৫০ কেজি এক জন ডায়ালাইসিস রোগীর দৈনিক ৫০×৩৫ = ১৭৫০ কিলোক্যলরি খাদ্য গ্রহন করতে হবে।

প্রোটিন বা আমিষ

যে সকল রোগী ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহন করতেছে তাদের প্রতিদিন 1-1.2 গ্রাম প্রোটিন কেজি হিসাবে গ্রহন করতে হবে। এই প্রোটিনের বেশির ভাগ প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন বা প্রাণীজ প্রোটিন , যেমন ডিম, দুধ, মাছ, মাংশ, ইত্যদি হওয়া বাঞ্চনীয়। বেশী প্রোটিন গ্রহনের কারণ হলো ডায়ালাইসিস প্রকৃয়ার সময় বিপাকীয় প্রক্রিয়ার অবচিতি বা প্রোটিন ক্যটাবলিজম ত্বরান্বিত হয়। শরীর থেকে ভিটামিন এবং  এমাইনো এসিড বের হয়ে যায় এবং প্রোটিওলাইটিক এনজাইম সক্রিয় হয়ে উঠে। পরিমানের চেয়ে কম প্রোটিন খেলে ওজন কমতে থাকে এবং রোগী দুর্বল হবে।

মনর রাখতে হবে ১ পিছ মাংশে 25-30 বা 200 মিলি দুধ, বা ১ পিছ মাছ 30 গ্রাম, বা ১টি ডিম 6.4 গ্রাম প্রোটিন যোগ দেয়।

পটাশিয়াম

কিডনি অকেজো হয়ে গেলে শরীর থকে পটাশীয়াম বের হতে পারে না এবং তা শরীরে জমে বিভিন্ন উপসর্গ তৈরী করে এমন কি মৃত্য পর্যন্ত ঘটাতে পারে। বেশী পটাশিয়াম যুক্ত খাবার অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতেে হবে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য। কোন কোন ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়াম এর মাত্রা ঠিক রাখতে প্রয়োজনে পটাশিয়ান গ্রহন করতে হবে। করান অনেক ক্ষেত্রে অপুষ্টি জনিত কারনে অনেক রোগীদের ডায়ালাইসিসের পর রক্তে পটাশিয়াম প্রতিস্থাপন করতে হবে। সাথারণত বিভিন্ন রকম ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে।

❋পটাশিয়াম সমৃদ্ধ সবজি: গাজর, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধসকপি, সীম, টমেটো, মূলা, লাউ ইত্যাদি।

❋পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল: কলা, কমলা, আম, ডাব, আঙ্গুর, ও খেজুর ইত্যাদি।

শাকসবজি থেকে পটাডিয়াম দূর করার উপায়

খোসা ফেলে দিতে হবে এবং সব্জি ধুয়ে নিতে হবে। গরম পানিতে ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবং পানি ফেলে দিতে হবে। অতঃপর বেশী পরিমান পানিতে রান্না করতর হবে। এতে করে সব্জি থেকে পটাশিয়াম বের হয়ে যায়।

সোডিয়াও এবং পানি

যদি অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহন করা হয় তাহলে শরীর ফুলে যায় এবং ফুসফুসে পানি জমতে পারে। ডায়ালাইসিস প্রাপ্ত রোগীদের খাদ্য তালিিকায় সোডিয়াম অর্থাৎ খাবার লবনের পরিমান সিমীত রাখা প্রযয়োজন কিন্তু কিছু রোগির ক্ষেত্রে সোডিয়ামের পরিমান খাদ্য তালিকা থেকে কমানো সম্ভব নয়। যার ফলে তাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। লবন বেশী খেলে পানির তৃষ্ণাও বেড়ে যায়। তাই রোগিদের পানি গ্রহনের পরিমান বেঁধে দেওয়া হয়। ডায়ালাইসিস রোগিদের প্রতিদিনের অবস্থা অনুয়াযী 500-100 মিলি পানি গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তরল খাদ্য এই পানির মধ্য অন্তভূক্ত। কিছু কিছু খাদ্য লবন যুক্ত হবার এবং ঔষুধ পিপাসা বাড়িয়ে দেয়। ডায়বেটিক রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেশী হওয়ায় পিপাসা বাড়ে। যেসব রোগীর প্রসাব হয় তাদের একটু বেশি পরিমান পানি দেওয়া যাইতে পারে।

ক্যলসিয়াম এবং ফসফরাস

বেশী প্রোটিন গ্রহনের কারনে ডায়ালাইসিস চিকিৎসাধীন রোগীদের খাদ্য তালিকায় ফসফরাস গ্রহনের পরিমান 12-16 মি:গ্রা:/কেজিতে সীমাবন্ধ রাখতে হবে। রক্তে ফসফেটের পরিমান নিয়ন্ত্রণের জন্য ফসফেট কমানোর ঔষুধ গ্রহন করতে হয়। রক্তে ফসফরাসের মাত্রা 4-5.5 মি:গ্রা: এর মধ্য রাখতে হবে। অথ্যথায় কিডনি জনিত হাড়ের রোগ Renal Osteodystrophy দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন গ্রহন

ডায়ালাইসিস রোগীদের অবশ্যই ভিটামিন দিতে হবে।  হিমো ডায়ালাইসিস রোগীসের ক্ষেত্রে পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন গুলো -(B-complex) ডায়ালাইসিস সাথে বের হয়ে যায়। বণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত মাল্টিভিটামিন ট্যবলেট এ ভিটামিন বি-৬ এবং ফলিক এসিডের পরিমান কম থাকে এবং বিভিন্ন খনিজ (Trach Elements) থাকে বিধায় এগুলো পরিহার করা শ্রেয়। তবে ভিটামিন বি ও সি  কমপ্লেক্স দেওয়া যাবে ১ মি: গ্রা: ফলিক এসিডের সঙ্গে। হেমোডায়ালাইসিস এর রোগীদের ক্ষেত্রে জিঙ্ক (ZN) দেওয়া যাবে কি না এ ব্যপারে এখনো ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে।

হাইপারলিপিডেমিয়া বা রক্তে চর্বির আধিক্য

ডায়ালাইসিস রোগীদের হাইপার-ট্রাইগ্লিসারইডেমিয়া এবং হাইপারলাইপ্রোটিনেমিয়া থাকে। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড ডায়ালাইস দ্বারা শরীর থেকে বের হয় না। খাদ্য গ্রহনের সময় মোট ক্যলোরির শতকরা 35 ভাগ ক্যলরি সরকরা শর্করা জাতীয় খাবার হতে গ্রহন করতে হবে এবং চর্বি জাতীয় এর মধ্যে অসমৃক্ত এবং সমৃক্ত চর্বি 1ঃ2 অনুপাতে হতে হবে। রক্তে চর্বির পরিমান কম রাখার জন্য ঔষধ গ্রহনের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যয়াম/ শরীরচর্চা  অতান্ত প্রয়োজনীয়।

খাদ্য গ্রহন নীতি অবশ্য পালনীয়

১। পরিমান মত ক্যলরী গ্রহন জরুরী।

২। যতোটুকু প্রোটিন বা আমিষ অনুমোধন করা আছে তার 50% প্রথম শ্রেণীর  প্রোটিন থেকে গ্রহন করতে হবে।

৩। শাকসবজি ও ডালের পটাশিয়াম নির্গত করে খেতে হবে।

8। ১/২ কাপ ডাল সপ্তাহ্ ১ বা ২ দিন ২০০ মিলি দুধ অথবা দই এর পরিবর্তে খাওয়া যাবে।

৫। কম পটাশিয়াম যুক্ত ফল সপ্তাহ এক বা দুই দিন খাইতে পারবেন ১০০ গ্রামের সম পরিমান।

৬। যতটুকু পরিমান লবন নির্ধারন করা আছে ততোটুকু রান্নায় ব্যবহার করা লাগবে। 

৭। পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যতোটুকু বরাদ্দ আছে ততোটুকু পান করতে হবে।

৮। রান্নায় মসলা ব্যবহার কম করতে হবে।

৯। বেশি সোডিয়াম ও বেশি পটাশিয়াম যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

১০। খাবার আকর্ষণীয় করে পরিবেষণ করতে হবে এবং অল্ল অল্প করে খাবার বার বার খেতে হবে।

১১। চাল ও ডালের মিশ্রণে প্রোটিনের জৌবমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং ডালে প্রচুর পরিমন পটাশিয়াম ও ফসফরাস আছে এই জন্য ডাল না খাওয়াই ভাল।

ডায়াবেটক রোগীদের ক্ষেত্রে

১। শরিরীরের ওজন বেশী হলে তা কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা, কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং ওজন স্বভিক মাত্রায় থাকলে তা বজায় রাখা একান্ত আব্যশক।

২। চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।

৩। শর্করা বহুল খাবার গুলো ( চাল, আটা দিয়ে তৈরি খাবার, মিষ্ট ফল ইত্যাদি) কিছুটা হিসাব করে ক্ষেতে হবে।

8। নর্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে।

৫। কোন বেলার খাবার বাত দেওয়া ঠিক নয়।

৬। অন্যান্য রোগে আকরান্ত হলে অর্থৎ অসুস্থ অবস্থায় বিষেশ খাদ্য ব্যবস্থা জেনে নিতে হবে।

৭। ক্যালরি বহুল খাবার নির্দেশিত পরিমান খেতে হবে। আরো পড়ুন...


আরো জেনেনিণ👇

কিডনি প্রতিস্থাপন- কিডনি ট্টান্সপ্লান্ট অব বাংলাদেশ

হিমো ডায়ালাইসিস কি 

হৃদরোগে হঠাৎ অসুস্থতার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

মুখের ঘা কেন হয়?









মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইন্টেসটিন্যাল টি, বি, জনিত ডায়ারিয়া Diarrhoea from T. B. of Intestine)-Bangla News-2023

হিরো আলম- "Hero Alom" Human of the bangladesh-বাংলা নিউজ-2023

অন্ত্রের প্রদাহ/ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র প্রহাহ/ননস্পেসিফিক আলচারেটিভ কোলাইটিস (Enteritis and Colitis)- বাংলা নিউজ-২০২৩