উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যবস্থা লক্ষণ ও করণীয়
উচ্চ রক্তচাপ- High blood pressure
![]() |
| রক্তচাপ পরিমাপ |
বর্তমানে সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়েছ য, দুইটি অন্যতম প্রধান কারনে অপরিহার্য রক্তচাপ বৃদ্ধি দেখা যায়। এই দুটি বিশিষ্ট কারন হইলো বংশগতি ও উদ্ধেগ। মা বাবা দু জনেই জদি একই রোগে আকরান্ত থাকেন তবে ছেল মেয়েদের শতকরা ৭৫ জনের জীবনের এক সময় এই রোগ হইবার সম্ভবনা থাকিয়া যায়। আর যদি দুজনের যে কোন এক জনের এই ব্যধি থাকে তবে সন্তানদের শতকারা ৩০ জনের পরিণামে রক্তচাপ বৃদ্ধি ঘটিবে। মানসিক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য যখন বাহিরে প্রকাশিত না হইয়া সর্বক্ষন মনকে উদ্বিগ্ন করিতে থাকে, তখন মনের উপর সেই ক্রমাগত উৎপীড়ন রক্তচাপ বৃদ্ধির কারন হইয়া দাঁড়াইতে পারে।
চিকিৎা বিঙ্গানের উন্নতির ফলে এক জন উচ্চ রক্তচাপে ভুগিতেছে এমন এক ব্যক্তির
সুচিকিৎসায় আজ দীর্ঘ জীবন আশা করিতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি এই রক্ত চাপ বেশী লক্ষ করা যায় এবং রক্তচপ বৃদ্ধির কারন গুলি যথা দীর্ঘস্থায়ী নেফরাইটিস, অ্যডরিনাল গ্রান্থির টিউমার প্রভৃতির অনুপস্থিতি প্রমানিত হয়, তাহলে রোগ নির্ণয় নির্ভুলভাবে ধরাহইতে পারে। একটি কথা সর্বদা সরনবরাখিতে হইবে যে ঔষুধ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি ভাল করিতে পারে না, পারে শুধু এমন এক পর্যায় আনিতে যাহা দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়।
Blood prussere বৃদ্ধির চিকিৎসায় রোগীকে কোন ঔষুধের ব্যবস্থা নিতে হইবে তাহা রোগীর রক্তচাপের মাত্রা, স্থায়ীত্বকাল, প্রদর্শিত লক্ষণ এবং ভাবাবেগের প্রেক্ষপটের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
২। মাঝারি ধরনের রক্তচাপ বৃদ্ধিঃ মেথিলডোপা বা রেসারপিন এবং আরও অন্যান্য ঔষুধ আছে যাহা ভিতরে উল্লেখ করা আছে এবং সেই সঙ্গে মূত্রবর্ধক ঔষুধ।
৩গুরুত্বর পর্যায়েঃ গুয়েনেথিডিন এবং আরও অন্যান্য ঔষুধ ভিতরে উল্লখ করা আছে এবং সেই সাথে মূত্রবর্ধক ঔষুধ।
8 রক্তচাপ বৃদ্ধিজনিত আকস্মিক বিপদেঃ শিরায় ফ্রসেমাইড যুক্ত ইনজেকশন শিরায় রেসারপিন ইনজেকশন যুক্ত ঔষুধ।
৫। রক্তচাপ বৃদ্ধিও হৃদকম্পন বৈকল্যঃ প্রোপারলোল এবং তৎসঙ্গে প্রশান্তিকর ঔষুধ।
সাধারণরভ ২০ হতে ৬০ বছর বযস্ক লোকেরা উচ্চ রক্তচাপ ভুগিতে থাকে। স্ত্রী-পুরুষ সকলেই এই রোগে আকরান্ত হইয়া থাকে। বৃদ্ধ বয়সেও এই রোগে আকরান্ত হতে দেখা যায়। বেশি সাস্থবান বা সাস্থবতী লোকের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ অধিক পরিমানে দেখা যায়। আমাদের ধারনা কোন ব্যক্তির শরীরে রক্ত বাশী থাকিলে তাহার রক্তচাপ অধিক হইবে।কিন্তু সব ক্ষত্রে উহা ঠিক নয়। এক জন সাস্থহীন বা রক্তহীন ব্যক্তিরও উচ্চ রক্তচাপ রোগ থাকিতে পারে। অনেক সময় এই রোগ পিতৃ-মাতৃকুলের কাহারও ছিল এমন অনেক ইতিহাস জানা যায়।
এক জন সুস্থ লোকের রক্তের চাপ সিষ্টোলিক(Systolic) ১১০ হইতে ১১০ (মিলিমিটার) এবং ডায়াস্টোলিক ( Dyastolic) ৭০ হইতে ৯০ (মিলিমিটার)। সোজা কথায়, মানুষের স্বাভিক রক্ত চাপ= ৯০+ বয়স। যদি কাহারো বয়স ৫8 হয়, তাহলে তাহার স্বাভাবি প্রেসার হবে ৯০+8৫=১৩৫। ইহাবহইলো সিষ্টোলিক প্রেসার। ডায়াষ্টোলিক চাপ হইবে উহার চেয়ে 8০/৫০ কম। ইহার উপরে রক্তের চাপ বাড়িলে উহাকে, উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে BP (Blood Pressure) বাড়িতে থাকে। উত্তজনা হইলে সিষ্টোলিক প্রেসার বাড়ে, কিন্তু ডায়াস্টোলিক প্রেসার ততো বাড়ে না।
![]() |
| ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মিটার |
১। এসেনসিয়াল হাইপারটনশন (Essential Hypertension) ও
২। সেকেন্ডারী হাইপারটেনশন ( Secondeary Hypertension).
১। এসেনসিয়াল হাইপারটনশন-Essential Hypertension: (কারন অজানা উচ্চ রক্তচাপ)ঃ উর্ধ্ব বয়স্ক লোকেরা এই রোগে বেশী আকরান্ত হয়। স্ত্রী-পুরুষ সমাম ভাবে এই রোগে আকরান্ত হয়। সকল প্রকার রক্তচাপের মধ্যে এই প্রকারের রক্তচাপ শতকরা ৮০ ভাগ। উর্ধ্ব বয়স্ক লোকদের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ এই রোগে মারা যায়।
উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ
১। মাথা ব্যথা হয় এবং চাপ ধরিয়া থাকে।
২। মাথার পিছনে ঘারের রক টানিয়া ধরে এবং ঘারে ব্যথা হয়।
৩। মাথা ঘোরে এবং পড়িয়া যাইবার সম্ভাবনা থাকে।
8। শরীরে অনিদ্রা ও ক্লান্তি ও অবসাধ নামিয়া আসে।
৫। বেশী চাপ বাড়িলে রোগী অঙ্গাণ হয় এবং অঙ্গহানি ঘটে।
৬। কাঁনের মধ্যে ঝাঁ ঝাঁ করে।
৭। কোন কাজে মোননিবেশ অক্ষমতা প্রকাশ পায়।
৮। স্বরণ শক্তি হ্রাস পাইতে পারে।
এসেনসিয়াল হাইপারটনশন (Essential Hypertension) দুই প্রকারঃ
ক) Essential Benign (অমারান্তক) Hypertension( এসেনসিয়াল বিনাইন হাইপারটেনশন)
খ)Essential Malignant (মারান্তক) Hypertension(এসেনসিয়সল মিলিগন্যান্ট হাইপারটেনশন)।
ক) Essential Benign Hypertension( এসেনসিয়াল বিনাইন হাইপারটেনশন) অমারান্তক কারন অজানা উচ্চ রক্তচাপঃ এ রোগে ভোগা এমন কতগুলি রোগি আছে যাহরা উচ্চ রক্তচাপ থাকা সত্তেও কোন কষ্ট অনুভব করে না। আবার এমন কতোগুলি রোগী আছে নিন্মোক্ত লক্ষণ প্রকাশ পায।
যেমনঃ ১। ঘোনো ঘোন মাথা বাথা ও মাথা ঘোরা থাকে।
২। সামান্য পরিশ্রমে বুক ধড়পড় করে ও শ্বাস দ্রুত চলে।
৩। সাকালে বমির ভাব হইতে পারে।
8। সকালে আধকপাল মাথা ব্যাথা থাকে এবং উহা সারাদিন চলিতে থাকে।
৫। ইহাতে রক্তচাপ বেশী উর্ধ্বগমী হয়। হৃৎপিন্ডের ব্যাাঘাতের জন্য শরীরের র ক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা কমিয়া গেলে রোগী অল্পেতেই হাঁপাইয়া যায়। হাইব্লাড প্রসার রোগী ভুগিতে ভুগিতে হঠাৎ একবার মস্তিকে রক্তক্ষরনের জন্য প্যাারালাইসিস হয়। ইহা কোন একটা অঙ্গ বা সমস্ত শরীর হতে পারে। অল্প রক্তক্ষরবের জন্য মুখের এক ধার বা হাত বা এক পা অথবা শরীরের অর্ধাংশ অকেজো হইতে পারে। রক্তক্ষরন বন্ধ না হইলে সমস্ত দেে প্যারালাইসিস হয় বা অল্প সময়ে রোগী মারা যায়। ইহাকে সন্ন্যাস বা এপোপ্লেক্সি বলে।
খ) Essential Malignantn Hypertension ( মারান্তক-কারন অজানা উচ্চ রক্তচাপ)ঃ এই রোগে আকরান্ত অবস্থায়া দীর্ঘ্যদিন যাবৎ চিকিৎসা না চলিলে রোগীর অল্প দিনথর মধ্যে প্র্যাণাশঙ্কা দেখা দেয়।সাধারণত ২০ থেকে 8০ বছরের মধ্য এই রোগে আকরান্ত হয়। এই রোগে রক্ত নষ্ট হয় এবং ডায়াসটোলিক প্রসারই ১০০ হতে ১৬০ হয় বা ১৬০ পর্যন্ত হতে পারে।
চিকিৎসকের বিনা পরামর্শে উচ্চ রক্তচাপের ঔষুধ খাবেন না। ইহাতে আপনার বিপদ ঘটিত পারে। আবার চিকিৎসকের বিনা পরামর্শে ঔষুধ খাওয়া বন্ধ করিবেন না ইহাতে বিপদ ঘটিতে পারে।
উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসা
১। রোগীর সারিরিক ও মানসিক বিশ্রামের প্রয়োজন।
২। সকল সময় রোগীর মানসিক শান্তি বজায় রাখা উচিত। কেননা উত্তজিত হইলে রক্তরবচাপ বড়ে।
৩। কোনক্রমেে রোগিক রাগান্নিত করা উচিত নয়।
8। সময় মতো ঘুমানোর অভাস গড়িয়া তুলতে হবে।
৫। অতিরিক্ত শোক, দুঃখ, আঘাত, প্রভৃতি যেন মনে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখিতে হইবে।
৬। যাহাদের শরীরের ওজন বেশী তাহাদের ওজন কমানো উচিত।
৭। স্নেহ ও সরকরা জাতীয় খাবার কম খাইতে হইবে।
৮। রক্তের উচ্চচাপ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের নিকট হইতে ঔষুধ লইয়া চাপ কমাইতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপের ঔষুধ
নিম্নে উচ্চ রক্তচাপের কিছু ঔষুধের নাম দেওয়া হইলো রোগ ও রোগীরবঅবস্থা অনুসারে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক যে ঔষুধ খাইতে বলিবে কেবল তাহাই খাইতে হবে।
যেমনঃ Tab. Indever (ইন্ডিভার) 10/40/80 mg.
Tab. Adlock (এ্যাডলক) 10/40/80 mg.
Tab. Propanol (প্রপানল) 10/80/80 mg.
Tab. Betabex (বেটাবেক্স) 10/40 mg.
Tab. Orinil (অরনিল) 5mg.
Tab. Fidopa (ফাইডোপা) 25mg.
Tab. Dopamin (ডোপামিন) 250mg.
Tab. Nidipen SR (নিডিপিন এস আর) 20 mg.
Tab. Betalc (বেটালক) 50 mg. ইত্যাাদি
![]() |
| ফল |
১। কারনঘটিত রোগের চিকিৎসা করাইতে হবে।
২। ঔষুধ ছাড়াই সাধারন ভাবে Pressure কমাইতে গেলে Diet Control ও অন্যান্য বিধান পালনীয়। এক কথায় রোগীকে পরবর্তী সারা জীবন ২8 ঘন্টার সকল কাজ অর্থাৎ খাওয়া দাওয়া, চলাফেরা, নিয়ম মাফিক করিতে হইবে।
৩। চর্বি জাতীয় খাদ্য- মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত খাসি ও গরুর মাংস খাওয়া চলিবে না। তবে তৈলাক্ত মাছ খাওয়া চলিবে।
8। রাগ মানসিক ইত্তেজনা , চিন্তা প্রভৃতি কমাইতে হইবে।
৫। পরিশ্রান্ত রোগীর শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের প্রয়োজন।
৬। ফল ও শাকসবজি বেশী খাওয়া ভাল।
৭। ওজন কমানোর জন্য সাভাবিক খাভারের অর্ধেক খাবার খাওয়া ইচিত।
উচ্চরক্তচাপ রোগিকে কি কি বর্জন করতে হবে
১। অমিতাহা, রাত্রিজাগরন, দেহ ও মোনের উত্তেজনা সকল কিছুই বর্জন করিতে হইবে।
২। রোগী যতটুকু পাওয়া সম্ভব বা যতটুকু করা সম্ভব তাহা লইয়াই সন্তুষ্ঠ হইবার মানষিক চেষ্টা করিতে হইবে।
৩। মৃদু গরম পানিতে গোসল করতে ও প্রচুর পরিমানে পানীয় জল গ্রহন করিতে হলবে।
8। প্রযোজনে কোন মৃদু জোলাপের সাহর্য্যে প্রয়োজনী রেচনের ব্যবস্তা করিতে হইবে।
৫। নিয়মিত খাদ্য গ্রহন অতিরিক্ত এজন হ্রাস করিতে সাহার্য্য করে।
৬। খাবারের সাথে লবন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
৭। ভাতে অতিরিক্ত টোকা লবন না খাওয়া ইত্তম।
৮। লবন ও চিনি দেহের ক্ষতিকর এদের পরিহার করতে হবে। আরো পড়ুন.....
আরো জেনে নিন👇



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন