মানসিক রোগ ও কারণ-(Menteal Disease & its Causes-2023)
মানসিক রোগ ও কারণ-(Menteal Disease & its Causes)
![]() |
| মানসিক রোগ |
মানসিক রোগে জ্ঞাতব্য
বিবৃত রোগের মতই মানুষের রোগ গুলো যে কোন বয়সের মানুষের হইতে পারে সব শ্রেণীর মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক কিছু নয় সামাজিক কুসংস্কার আর অজ্ঞতার কারণে সমাজে মানসিক রোগাক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি নিরুপ ধারনা পোষন করা হইতেছে। অনেক রোগের মত মানসিক রোগের ও চিকিৎসা আছে এবং অনেকাংশ তা প্রতিরোধ করা সম্ভব সময় মতো সঠিক চিকিৎসাও পরামর্শ গ্রহণ করলে গ্রুপ নিরাময় এবং রোগীর পরিবার আত্মীয়-স্বজন ও পড়া প্রতিবেশীর কষ্ট দূর হয়। মানসিক রোগ সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত কিছু ধারণা আছে যেমন যতক্ষণ কোন লোক অস্বাভাবিক বা খারাপ আচরণ না করিয়াছে ততক্ষণ তাকে মানসিক রোগী বলিয়া মনে করা যায় না কিন্তু খুব কম রোগীর বেলায় অস্বাভাবিক ব্যবহার দেখা যায়। বেশিরভাগ রোগী সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক আচরণ করে সমাজে ব্যাপক বিশ্বাস রয়েছে জিন পরিবার ভূত-পেত্নীর খারাপ নজর পড়া বা আছর হওয়া,বানমারা, যা দুটোনা করা, খারাপ হওয়া লাগা, বায়ুর দোষ, প্রতিবেশীর দ্বারা খারাপ কিছু খাইয়ে দেওয়া, বা তাবিজ করা ইত্যাদি দ্বারা মানসিক ব্যাধির সূচনা হয়। আসলে এ ধারণা গুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন দেশে-বিদেশে জরিপ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এসব আদৌ ভৌতিক বিশ্বাসের সাথে মানসিক রোগের কোথাও কোন সম্পর্ক নেই।
👉আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত কারণ
১। দন্দবহুল কলাহময় পারিবারিক অশান্তি সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা প্রভৃতি কারণে মানসিক রোগ হতে পারে।
২। ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যার বিভিন্ন কারণে দুশ্চিন্তা এবং দ্বিধাদ্বন্দ হইতেও মানসিক রোগ উৎপত্তি হইতে পারে।
৩। যদিও মনে করা হইয়া থাকে যে বংশগত প্রভাবে মানসিক ব্যাধি হয় তথাপি দেখা গেছে যে বেশিরভাগ রোগের ক্ষেত্রে এই বংশগত প্রভাব অন্যান্য কারণে সাথে একযোগে কাজ করে।
8। অনেক দৈহিক কারণে মানসিক রোগ হইতে পারে। যেমন,
(i) শারীরিক অসুস্থতা, ট্রাইফয়েড, সিফলিস, মস্তিস্কে আঘাত জনিত প্রদাহ,
(ii) অল্পবয়সে পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাব,
(iii) বিবিধ বিষক্রিয়া বা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মানসিক রোগ হইতে পারে।
👉মানসিক রোগীর প্রধান লক্ষণ
১। অতি উত্তেজনা (Agitation)ঃ চঞ্চলতা প্রলোপ করা বিক্ষুদ্ধ ও আক্রমান্তক আচরণ প্রবৃত্তি উপসর্গ জিনিসপত্রের ক্ষতিসাধন নষ্ট আর ভাঙচুর করা।
২। উদাসীনতা (Careless/Reterdation) চক্ষু হয়ে যাওয়া ঠিক মত খাওয়া দাওয়া না করা একা একা বিরবির করে আক্রমণের কথা বলা কিংবা অকারনে নিজে নিজে স্বর্গের সাথে থাকিতে পারে
৩। অশান্তি /অবসাদ (Depression): বিষন্নভাব, কিছু ভালো না লাগা, অস্থিরতা, অনিদ্রা, হাত-পা ও মাথা জ্বালাপোড়া নিজেকে অসহায়ের ছোট মনে করা, আত্মহত্যা চিন্তা কিংবা প্রবণতা, বুক ধরফর করা এবং অন্যান্য শারীরিক উপসর্গ তাকিতে পারে। অনেক সময় স্নয়ুবিক দুর্বলতাও থাকিতে পারে।
8। অতি উদ্যোগ বা অস্থিরতা (Restlessness) : অস্থিরতা বুক ধর পর করা বদহজম বা অরুচি, অকারনে ভীতি,অতি দুর্বলতা, ঘুম কম ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে।
৫। যৌন দুর্বলতা(Sexual Inablitily): বিভিন্ন যৌন দুর্বলতা অনেক অশান্তির কারণ হয় এবং এই সম্পর্কে ভীতি, সমস্যা কে আরো জটিল করিয়া দেয়। কুসংস্কার ও ভুল ধারণা হইতে উদ্যোগের জন্যই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগের সৃষ্টি হয়।
৬। সঙ্গাহীনতা দুইভাবে হলতে পারেঃ
(ক) মানসিক রোগঃ প্রধানত মানসিক অশান্তির কারণ এবং কোন ঘটনা বা অশান্তিকে কেন্দ্র করে ফিট হয়। ইহা ইষ্টিরিয়া নামে পরিচিত। এ ধরনের ফিট জানগ্রতবস্থায় এবং অন্যলোকের উপস্থিতে হয়ে থাকে। ফিটনের সময় রোগী শরীর কোনরকম আঘাত পায় না। পেশাব হয় না। লোক থাকলে আরো বেশি হাত পা ছরে ফিট হয়, বন্ধ করিবার জন্য শক্তি প্রয়োগ করিলেও আরো জোর করে ।
(খ) স্নায়ুবিক রোগঃ স্নায়ুবিক কারণে ফিট (Faint) হয় এবং হ্যামিগীরোগ নামে পরিচিত এই রোগী পিঠ হইলে তাহার শরীরে কিছু নি হইতে পারে রোগীর সাধারণত জ্ঞান হইয়া যেখানে সেখানে পড়িয়া যায় এবং শরীরে আঘাত পায় ফিটের সময় প্রসব করে, মুখ ফেনা বা গজলা বের হয়, জিব্বা ঘাটে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে খিচুনী ছাড়াও অজ্ঞান হইতে পারে ।
৭। জিনের আছরঃ হাওয়া লাগা বা বান মারা ইত্যাদি যাহারা ভুগিতেছে বলিয়া মনে করা হইতেছে আসলে তারা মানসিক রোগগ্রস্থ। মানষিক রোগের চিকিৎসায় ঔষধ আর পরামর্শ দুটি সমান প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে মানসিক রোগের মূল কারণ হিসেবে।
যে কোন মানসিক ব্যাধিতে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণসমূহ খুঁজিয়া বাহির করিত হইবে এবং সেইসঙ্গে তাহার সমাধানের চেষ্টা চালাতে হইবে। পারিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করিয়া তাহাদের আশ্বাস প্রদান করিতে হইবে। অনেকে ধারণা বিবাহ দিলে রোগ ভালো হইবে। ইহা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মারাত্মক ভুল ধারণা। এবং এতে সামস্যা আরো জটিল হয় এবং কোথাও কোথাও বিষময় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ।
মানসিক রোগের প্রভাব কম বেশি অধিকাংশ লোকের মধ্যেই রহিয়াছে। গভীরভাবে মনুনিবেশ করিলে সহজেই অনুমান করা যায় যে স্বাভাবিক যাহা হওয়া উচিত তা হইতে কম বেশি একটুকু আধটুকু আমরা অনেকেই হিন্দুস্তল হইতে সরিয়ে আছি অর্থাৎ স্বাভাবিক প্রান্তে নাই। যাহারা অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে, তাদেরকে আমরা বুঝিতে পারি না, কিন্তু স্বাভাবিক বাহিরে যারা আছে তারাহারা আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। আমাদের ভাষায় তাহাদিকে পাগল বলি । আর যাহারা একটু আধটুুকু এদিক ওদিক তাহাদিকে মেজাজি বা রাগান্বিত স্বভাবের লোক বলি।
বংশগত কারণঃ বংশগত কারণে সন্তান যেমন পিতা-মাতার কিছুটা চেহারা বা রঙ পায় তেমনি সন্তান পিতা-মাতার দোষ গুণ পাইয়া থাকে কি কি কারণে এমন হইয়া থাকে তহা সকলেরই অজানা। ইহা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার হাতে।
সাংসারিক জীবনঃ মানুষের সাংসারিক জীবনে ঘাত প্রতিঘাত আছে এমন অবস্থায় সম্মুখীন আমরা মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকি। যাহারা আঘাতের প্রচন্ডত সহ্য করিতে পারে না, তারাই মানসিক ভারসাম্য হারাইয়া ফেলে, তাহাদিগকে আমরা পাগল বলি।
যৌবনকালঃ এই সময় মানুষের শরীরে একটি শারীরিক ও মানসিক জোয়ার আসে, এই সময় অনেকেই নিজেকে সামলাইতে পারে না। মানসিক ভারসাম্য হারাইয়া ফেলে, পৃথিবীর সব কিছু ভুলিয়া প্রেমিকের পিছনে ছুটে, যেন দুনিয়ার কোন শক্তি তাহার পথকে রোধ করিতে পারবে না। উত্তাল তরঙ্গে গা ছারিয়া দিয়া থাকে লক্ষ্যবস্তুকে পাবার আশায়। যখন ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হয়, তখন মানসিক ভারসাম্য হারাইয়া ফেলে এবং লোকেরা তাহাদিগকে পাগল বলে।
সমাজ ব্যবস্থাঃ পৃথিবীতে কে হয় ধনী বা গরিব হইয়া জন্মায় না। মানুষ নিজ বুদ্ধি প্রয়োগে উপার্জন করে কেউ বা বুদ্ধিতে পাস করে আবার কেউ ফেল। করে এবং জীবন যুদ্ধে পরাজিত হইয়া ভারসাম্য হারাইয়া ফেলে বলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় ।
ব্যক্তি স্বাধীনতার হস্তক্ষেপঃ বাল্যকালে কাহারো ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকে না। সংসারের প্রদান কর্তার নিয়মে কাজ করতে হয়, চলাফেরা করিতে হয়। বাড়ির এই করা নিয়ম অনেকেই সহ্য করিতে পারে না। সে চায় নিজস্ব মতে চলিতে। কিন্তু যখন তার নিজ স্বাধীনতার বাধা পড়ে, তখন সেই ব্যক্তি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে-ই মানসিক রোগে ভোগে।
প্রিয়জনের বিয়োগঃ জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার ইঙ্গিতে হয় ইহা আমাদের স্বীকার করিতে হবে। সংসার জীবনে যাত্রাকালীন পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির অঘন বিধানে যখন পৃথিবী ছাড়িতে হয়, অনেকে এই প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা সহ্য করিতে না পারিয়া মানসিক ভারসাম হারিয়ে ফেলে। এই সত্যকে মানিয়ে নিতে যাহারা পারে না তারাই ধীরে ধীরে মানসিক রোগের শিকার হয়।
একান্নবর্তী পরিবারঃ এই অবস্থা অনেক নববধূ মানিয়া চলিতে চায় না । তারা স্বামী স্ত্রী মিলে নিজস্বভাবে কল্পলোকে একটি স্বপ্নের রাজ্য গরিয়া তুলিতে চায়। কিন্তু অনেকে মকান্নাবর্তী পরিবারে সেই স্বপ্ন গড়া আর সফল হয় না, কিংবা বাস্তবে রূপ দিতে না পারিয়া মনোবিকারগ্রস্থ রোগী/রোগিনহী হয় ।
স্বামী স্ত্রীর ভিন্ন মনোভাবঃ এই দুজনের মনোভাব যখন একত্রে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না, সে ক্ষেত্রে উভয় মানসিক দ্বন্দ্বে চালিত হয়। একজনের কাজ অপরজন পছন্দ করে না। কাজেই প্রত্যেকেই পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা ও সহানুভূতি দেখাইয়া সংসারকে মানিয়া চলিতে চেষ্টা করিতে হইবে নতুবা মানসিক বিকারে ভুগিতে হইবে।
জনসংখ্যার চাপ সংসার সন্তান সন্ততি বেশি হওয়ায় সকল সন্তানই বাবার আয়ের উপর চলে কিন্তু সীমিত আইডিয়া এত লোকের ভরণপোষণ কিভাবে সম্ভব এই চিন্তা স্বামী স্ত্রী ব্যাকুল করিয়া তোলে আবার স্ত্রী অনেক সময় ভাবেন এতগুলি সন্তান উপার্জন কমাবার এমনি অবস্থাতে যদি স্বামী মৃত্যু শয্যায় সাহিত্য হয় তবে এই বিরাট সংসার কি পরিণত হইবে।এমনি হাজার রকম মনোভাব মনকে ব্যাকুল করিয়া তোলে ফলে পরবর্তী পর্যায়ে মানসিক রোগের শিকার হইয়া পরে।
স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া, ঘন ঘন রোগে কাতর থাকায় ইত্যাদিতে রোগীর নিজেকে ছোট মনে করে এবং নিজের জীবনকে চিন্তা ভাবনায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় এবং মানসিক রোগের শিকার হইয়া পড়ে।
উপরের কারণ ছাড়াও পরীক্ষায় অকৃত কার্যকরতা চাকরিতে অকৃত কার্যকতা বা জীবনের যেকোনো একটি ছোট সমস্যা কে বড় করিয়া দেখা নিজে নিরাশ হইয়া পড়ে। এমনি হাজারো ধরনের সমস্যা আছে যার কোন সঠিক উত্তর নাই । এমনই সমস্যার কোথা একা ভেবে নিজেকে ছোট করে পরবর্তীতে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়।
মানসিক রোগ বড় জটিল। ইহা বোঝা এবং রোগ নির্ণয় করা বড়ই কঠিন। এই দুইদিনের দুনিয়ায় এত ভেবে কি হইবে। তাই নিজের কাজ নিজে করা উচিত। আল্লাহকে স্মরণ করে ধর্মে-কর্মে মন দিলে সব ঠিক হইয়া যাইবে ইনশাআল্লাহ।
✋আরো জেনে নিন👇
👉কিডনি খারাপ হওয়ার লক্ষণ গুলো কি কি?
👉কোন খাবার খেলে কিডনি ভাল থাকে?
👇
👉কুকুর কামড়ের চিকিৎসা ও করণীয় কি?
👉হাইপার/হাইপো এসিড গ্যসট্রাইটিজ-Hyper/Hypo acid Gastritis-2023
👉হুপিং কাশি-whooping Cough 2023
👉খাইজানি, পাঁচাড়ী, চুলকানী-Scabies 2023
👉নবজাত, শিশু, কিশোররোগ বিশেষঙ্গ ও সার্জন-2023
👉গলার স্বর বসিয়ে যাওয়া বা গলা ভাঙ্গা
👉আগ্ন্যাশয় প্রদাহ-Acute Pancrities
👉ব্লাড ক্যন্সার কি ব্লাড ক্যান্সার কেন হয়-?
👉পিত্ত পাথরী/ পিত্তথলীতে পাথর হয় কেন
👉পেটে জরুরি বা সংকট অবস্থা কি?
👉এপেনডিসাইটিজ-(Apendicities) কি
👉ডায়ালাইসিস রোগির খাদ্য ও পুষ্টি
👉কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে কত টাকা লাগে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন