জল উদরী বা পেটে পানি জমা- Ascites

 জল উদরী-Ascites

জল উদরী বা পেটে পানি জমা-
পেটে পানি জমা রোগ
পেটের মধে পানি জমিলে উহকে জল উদরী বলে। পাকস্থলীর বহির্ভাগ পেরিটোনিয়াম নামক দিল্লি দ্বারা ঢাকা। পেটের নাড়িভুড়ি, যকৃত, প্লীহা ও চামড়ার নিচে কমবেশি ফাঁপা অর্থাৎ খালি জায়গা আছে এবং ঐ স্থানে (পেরিটোনিয়াম কেভিটিতে) রক্ত জলীয় অংশ জমা হইয়া জল উদরী রোগের সৃষ্টি করে।

কারণ

১। কিডনিতে প্রদাহ হলে প্রসব কম হয়। ফলে পেটে কিংবা অন্য জায়গায় পানি জমে।

২। দেহের পোর্টাল রক্ত সঞ্চালনের পথে  সিরোসিস অব লিভার বা ক্যান্সার হলে রক্ত যাওয়ার পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে পেটে পানি জমে।

৩। ম্যালেরিয়া, পুরনো বদহজ, পরানো আলসার বা কালজ্বর  হলে এমন হয়। 

8। নেফ্রাটিক সিনড্রোম, অল্পপুষ্টিজনিত আমিষের অভাব, কনজেসটিভ কার্ডিয়াক ফেলিওর ইত্যাদি বহু কারণে হতে পারে।

৫। পেরিটোনিয়ামের প্রদাহ হইলে পেটে পানি জমে।

৬। রক্তহীন হইলে হার্ট দুর্বল হল, ফলে পেট এবং শরীরে অন্যান্য জায়গায় পানি জমে।

৭। যকৃত বা লাসিকা গ্রন্থি অত্যধিক বৃদ্ধি পাইয়া শিরার উপর চাপ সৃষ্টি হইলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে জল উদরী হয়।

৮। যননযন্ত্রের অসুখেও পেটে পানি আসে।

তলপেটে বা ওভারিতে টিউমার হইলে এই রোগ হইতে পারে।

লক্ষণ

১। তলপেট ভার বোধ হয় এবং ব্যথা হয় । দাঁড়ালে সব পানি তলপেটে যায় এবং সেখানে পানি একত্রিত হইয়া বেশী ফুলিয়া ওঠে এবং ওষুধের কমে যায়। 

২। রোগী চিৎ হইয়া শুইলে পানি সব দিকে সমনভাবে থাকে।

৩। পানি বেশী হইলে নাভী উলটিয়া বাহিরের দিকে আসে।

8। পেটে হাত রাখিয়া হওয়ার উপর অন্য হাত দ্বারা টোকা দিলে পানি ধাক্কা বোঝা যায়।

৫। এই রোগে শুইয়া থাকিলে রোগীর শ্বাসকষ্ট বেশি হয়।

৬।  লিভার বৃদ্ধি পায়, পা ফুলে যায়। পেটে চপ দিলে লিভারের বৃদ্ধি অনুভব করা যায়।

৭। বমি বা বিবমিষা হতে পারে। 

৮। হজমের গন্ডগোল ও  কোষ্ঠ-কাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

৯।  সহজে চিকিৎসায় সারেনা।

১০। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে।

অনুসন্ধান/টেস্ট

1. U.S.G of whole abdomen.

2. Urine R/M/E

3. Serum Creatinine

4. S.G.O.T

5. প্রয়জনে Renograme

6. Serum Blood Urea

7. S.G.P.T

চিকিৎসা

প্রসব কম হলে ফ্রসিমাইড 40mg যুক্ত ঔষধ খেতে হবে। বড়ি খাওয়ায় রস না কমলে ইনজেকশন Lasix দিতে হবে। দুর্বলতার জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যুক্ত ওষুধ খেতে হবে। অথবা, ইনজেকশন শেষ হলে ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া যায়।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার 

১। লবণ খুব কম খেতে হবে।

২।  চিকিৎসার পর রোগীকে ৫/৬ খুব সাবধানে রাখতে হবে।

৩। রোগী ভাল হইল পথ্য চিকিৎসার প্রতি নজর রাখা উচিত। কেননা, রোগ জটিল হইয়া যে কোন সময় রোগী মারা যেতে পারে। 

8। হালকা ও পুষ্টিকর পথ্য দিতে হবে । তিক্ত দ্রব্য খাওয়া ভালো।

৫। প্রচুর পরিমাণ পানি খাবে ।

আরো পড়ুন...


আরো জেনে নিন👇

👉প্যারালাইসিস কি, কেন হয়?

👉পেটে জরুরি বা সংকট অবস্থা কি?

👉এপেনডিসাইটিজ-(Apendicities) কি?

👉কিডনি রোগীর খাদ্য তালিকা কি

👉জন্ডিস বা পান্ডু রোগ কি?

👉নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারন কি?

👉ডায়ালাইসিস রোগির খাদ্য ও পুষ্টি

👉কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে কত টাকা লাগে

👉উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়?

👉চোখ উঠা রোগের কারন কি?

👉কালা জ্বর কি?

👉গর্ভবতী মহিলার প্রাথমিক কি কি লক্ষন প্রকাশ পায়





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইন্টেসটিন্যাল টি, বি, জনিত ডায়ারিয়া Diarrhoea from T. B. of Intestine)-Bangla News-2023

হিরো আলম- "Hero Alom" Human of the bangladesh-বাংলা নিউজ-2023

অন্ত্রের প্রদাহ/ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র প্রহাহ/ননস্পেসিফিক আলচারেটিভ কোলাইটিস (Enteritis and Colitis)- বাংলা নিউজ-২০২৩