রক্তহীনতা-Anaemia -2023
রক্তহীনতা-Anaemia
ডাঃ এ, এন, এ, হোসেন-এম.বি.বি.এস
![]() |
| রক্তহীনতা-Anaemia |
মানুষের শরীরে প্রয়োজনে তুলনায় কম রক্ত থাকলে এমন ব্যক্তিকে রক্তহীনতায় ভুগিতেছে বলা হয়। রক্ত একটি তরল পদার্থ। ইহা দেখিতে গারো লাল। ইহাতে অসংখ্য লোহিত কণিকা ভাসমান থাকে বলিয়া লাল বর্ণ দেখায়। পূর্ণবয়স্ক একজন লোকের শরীরে রক্তের পরিমাণ আনুমানিক 5 শের। স্বাভাবিক অবস্থায় ইহা তরল থাকে। শরীর হতে বাহির হইবার পর দুই হতে পাঁচ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধিয়া যায়। রক্তহীনতা কোন রোগ নয়- ইহা বিভিন্ন রোগের একটি লক্ষণ মাত্র। একজন সুস্থ ব্যক্তি শহীদ রক্তশূন্যতায় বগিতেছে এমন এক ব্যক্তির তুলনা করিলে ইয়া আরো পরিষ্কার বোঝা যায়।
এই বিশ্বের সর্বত্রই রক্তহীনতা ভোগা রোগী আছে। তদুপরী পাকভারত ও উপমহাদেশে ও দূরে প্রাচ্যের দেশগুলোতে রক্তহীনতা শিকার রোগী সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি। বাংলাদেশের লোক কিছু না কিছু এমোনিয়া ও রক্তহীনতায় ভুগিতেছে এবং তাহার সকল ক্ষেত্রে লৌহ অভাবজনিত রক্তহীনতা । ছোট শিশু এবং সন্তান সম্ভাব্য মায়েদের ভিতর এই রক্তহীনতা উপস্থিতি অপেক্ষাকৃত বেশি। রক্তের স্বাভাবিক মান বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিমিটার রক্তে ১৪.৬ গ্রাম যখন এই পরিমাণ হিমোগ্লোবিন রক্ত বিদ্যামান থাকে তখন ১০০% হিমোগ্লোবিন আছে বলিয়া ধরা হয়। বাংলাদেশের অধিবাসীদের রক্তের শতকরা ১০০ ভাগ হিমোগ্লোবিন খুব কম অসংখ্য ব্যক্তির ভিতর থাকে। আমাদের সুস্থ শরীরে (পুরুষের ক্ষেত্রে) অধিক ক্ষেত্রে ১২.৫ গ্রাম অর্থাৎ প্রায় ৮৫% হিমোগ্লোবিন পাওয়া যায় বলিয়া কে মোটামুটি ভাবে স্বাভাবিক বলিয়া ধরা হয়।
জন্মগ্রহণের সময় নবজাতকের হিমোগ্লোবিন উচ্চমাত্রায় (18 গ্রাম 100 মিলি রক্ত) থাকে কারণ পৃথিবীর বায়ু শেবনের পূর্বে মায়ের গর্ভে তুলনামূলকভাবে স্বল্প অক্সিজেনের আবহাওয়া হয় তাকে থাকিতে হয়। তিন মাস বয়সেই হিমোগ্লোবিন মান অর্ধেক নামিয়ে আসে। অতঃপর আবার ধীরে ধীরে ইহার মান বয়:প্রপ্ত হওয়া পর্যন্ত এক রকম মানে বাড়িতে থাকে। এই সময় বাচ্চার পুষ্টি ঠিকমতো না হলে, লৌহ গ্রহণ কমিয়ে গেলে শিশু রক্তহীনতা দেখা দেয় এবং অতপর এই বাড়ার হার পুরুষের ক্ষেত্রে মহিলাদের তুলনায় একজন পুরুষের মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনের মান প্রতি 100 মিলি মিলিটারে দুই গ্রাম অর্থাৎ ১০% বেশি থাকে । পুং হরমোন এই বাড়তি হিমোগ্লোবিন্মানের জন্য কার্যকর বোঝা যায়। কারণ অধিকাংশ রক্তহীনতায় ভোগা রুগীর রক্তহীনতার জন্য এই সঙ্গে একাধিক কারণ দায়ী থাকে। কারণ আনুষঙ্গিক কালে মানবদেহে রক্তহীনতা দেখা হল এই যে, রক্তহীনতা দেখা দেওয়ার পিছনে কার্যকরী মূল যে তিনটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন তাহলে রক্তহীনতা দেখা দিবে যদি রোগীরঃ
(ক) শরীর হইতে রক্ত খোয়া যায় ব্লাড লস এবং তাহা সদ্য রক্ত হারানো কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
(খ) অস্থিমজা পাশ্চাত্য পরিমাণে স্বাভাবিক লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন না করিতে পারে।
(গ) শরীরে অত্যাধিকারে রক্ত কোষ ভঙ্গন ঘটিতে থাকে যাহা পূর্ণ স্থাপনে অস্থিমজ্জা ব্যর্থ হয়।
তবে শরীরের লৌহ উৎপাদনের অভাবে হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণ ব্যর্থতায় হইল এত অঞ্চলে তথা সমগ্র বিশ্বের রক্তহীনতা দেখা দিবার পিছনে দায়ী। প্রধান কারণ এবং দেহে প্রয়োজনীয় লৌহের অভাব দেখা দেবার সাধারণ কারণ হলো শরীরের রক্তক্ষয় বা রক্ত হারানো। তাই মনে প্রশ্ন জাগে যে, স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে হুকওয়ার্ম কৃমির আক্রমণে আমাদের অন্তর্গাত্র হইতে প্রচুর পরিমাণে রক্ত খোয়া যায়।
👉রক্তহীনতার প্রকারভেদ
১। দেহ হইতে রক্ত ক্ষয় হওয়া জনিত রক্তহীনতাঃ
রোগীর ভেতর কিরূপ রক্তহীনতা দেখা দিতে পারে তাহা নির্ভর করে দেহের কোথা হইতে কতটা মারাত্মকভাবে ও কি হারে রক্তক্ষরণ ঘটিলো তাহার উপর। অল্প সময় অনেক বেশি রক্তপাত ঘটিলে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে অল্প আয়তনে রক্তপাত ঘটিতে থাকিলে রোগীর ভিতরে রক্তহীনতার লক্ষণাদি ফুটিয়া উঠিবে।
২। লোহিত রক্তহীনতা উৎপাদনের অপর্যাপ্ততাঃ
রক্তকণিকা উৎপাদনে প্রয়োজনীয়তা উপাদানসমূহের অভাব, যেমন লৌহ অভাবজনিত রক্তহীনতা, ফলিক এসিড অবাক জনিত রক্তহীনতা, পাইরিডক্সিন অভাবজনিত রক্তহীনতা, স্কারভিজনিত রক্তেহীনতা, মিকসিডিয়া রোগে রক্তহীনতা. অস্থিমজার ব্যর্থতা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের অপর্যাপ্ততা দেখা দেয়।
৩। রক্ত কণিকার অতিরিক্ত ভাঙ্গন জনিত রক্তহীনতাঃ
ইহা জন্মগত বংশ অনুক্রমিক কারণে রক্ত কোষ ভাঙ্গনের কারণ রক্তকণিকার অভ্যন্তরে নিহিত থাকিতে পারে কিংবা কারণ হইবার বাহিরেও থাকিতে পারে ।
8। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সমূহের জড়িত রক্তহীনতাঃ
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ব্যাধি, রোগ জীবাণু সংক্রমণ, ক্যান্সার ব্যধি, বাত ব্যধী বা রিউমাটয়েট অর্থাইটিজ রক্তহীনতা দেখা দেয়, ইউরিমেয়া অবস্থায় রক্তহীনতা অন্ত্রঃস্রাবী গ্রন্থির কাজে ব্যর্থতার কারণে রক্তহীনতা, যকৃতের ব্যাধি দেখা দেওয়া রক্তহীনতা।
👉রক্তহীনতার অভিযোগ ও লক্ষণ
রক্তহীনতায় ভোগা রোগীর কোন অভিযোগ না থাকিতে পারে। তবুও তাহার দুর্বল ও অবসন্ন এবং একটু পরিশ্রম করলে শ্বাসকষ্ট ও বুক ধড় পড় করা করার কথা বলিতে পারে।
কিছুদিন যাবৎ উত্তরণ্যতা স্বীকার এমন রোগীর মাথায় ঝিমঝিম ভাব, মাতা ঘুরানী, মাথা ব্যাথা, চোখে ভালভাবে দেখিতে না পারা, কানে ভো,ভো শব্দ লাগিয়ে থাকা এবং হঠাৎ ক্ষনিকের জন্য জ্ঞান হারানো কিংবা নিদ্রাহীনতার অভিযোগ করিতে পারে, রক্তহীনতায় ভোগা বয়স্ক রোগের হৃদপিণ্ড রক্তচাপায় ঘাটতির ফলে এনজাইনার বুক ব্যথার কথা বলিতে পারে।
নালীতে অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের কারণে রোগীর ক্ষুদামন্দা, অর্জিন বা হজম না হওয়া, বমি বমি ভাব, ঠিকমত মলত্যাগ না হওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। রোগীর শরীরের ত্বকে রক্ত সরবরাহ বেশি কমিয়ে যায় বলিয়া রোগীর ভেতর খুব শীত শীত লাগা বা অল্প ঠান্ডায় শীত অনুভব করার অভিযোগ দিতে পারে।
রক্তহীনতার কারণে ও নিয়মিত ঋতুস্রাব বা মাসিক হইবার অভিযোগ দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ মাসিক অস্বাভাবিকভাবে বন্ধ হইয়া যাবার কথা বা বেশি রক্ত ভাঙ্গার অভিযোগ করিতে পারে। পুরুষ রোগীরা অংগোস্থান ব্যর্থতা ও যৌন কাম লোপ বা হ্রাস পাইয়াছে এমন অভিযোগ করিতে পারে।ূ দীর্ঘকাল যাবৎ রক্তহীনতার ভাঙ্গনে হৃদপিণ্ডে ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে এবং রোগীর পায়ের গোড়ালিতে পানি জমিয়া ফুলিয়া ওঠে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা দিতে পারে।
👉 চিকিৎসা
১। কারণ গঠিত রোগের চিকিৎসা করিতে হইবে।
২। আমাদের দেশে অধিকাংশ রক্তহীন রোগীর হুকওর্য়াম, রাউন্ড ওয়ার্ম ইত্যদি থাকিলে সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের চিকিৎসা করিতে হইবে।
৩। পেটের গন্ডগোল থাকলে তাহার চিকিৎসা করতে হইবে । কেননা পেট ভালো না থাকলে কোন প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খাইতে পারিবেনা অন্যদিকে রক্তের ঔষধও দেয়া যাইবে না।
8। রক্তশূন্যতা দেখা দিলে ফেরাস সালফেট যুক্ত ঔষধ দেওয়া যায়ঃ
(এক চামচ ঔষুদ =২০০ mg ফেরার সালফেট)
মাত্রাঃ দুই চামচ করিয়া দিনে দুই /তিনবার আহারের পর।
৫। কঠিন রক্ত শূন্যতায় ব্লাড ট্রান্সলেশন দরকার হয় এজন্য রোগীকে হসপিটালে পাঠাইতে হয় ।
👉পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা
১। প্রত্যহ ভোরে মুক্ত বাতাসে ভ্রমণ উপকারী।
২। প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাদ্য খাওয়া উচিত। যেমন হাফ বয়েল ডিম, ছোলা ভেজা, বড় মাছের মাথা, কলিজা প্রভৃতি। এই সকল খাওয়া অসুবিধা দেখা দিলে হজমের ঔষুধ খাওয়াইতে হইবে।
৩। লাল শাক খাওয়া ভালো কেন নাই রক্ত বৃদ্ধি করে।
8। হালকা গরম পানিতে গোসল করিতে হইবে।
৫। পেটের গন্ডুগোল থাকিলে প্রথমে কৃমির ওষুধ খাওয়াইতে হইবে।
✋আরো জেনে নিন👇
👉কুকুর কামড়ের চিকিৎসা ও করণীয় কি?
👉হাইপার/হাইপো এসিড গ্যসট্রাইটিজ-Hyper/Hypo acid Gastritis-2023
👉হুপিং কাশি-whooping Cough 2023
👉খাইজানি, পাঁচাড়ী, চুলকানী-Scabies 2023
👉নবজাত, শিশু, কিশোররোগ বিশেষঙ্গ ও সার্জন-2023
👉গলার স্বর বসিয়ে যাওয়া বা গলা ভাঙ্গা
👉আগ্ন্যাশয় প্রদাহ-Acute Pancrities
👉ব্লাড ক্যন্সার কি ব্লাড ক্যান্সার কেন হয়-?
👉পিত্ত পাথরী/ পিত্তথলীতে পাথর হয় কেন
👉পেটে জরুরি বা সংকট অবস্থা কি?
👉এপেনডিসাইটিজ-(Apendicities) কি
👉ডায়ালাইসিস রোগির খাদ্য ও পুষ্টি
👉কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে কত টাকা লাগে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন