কলেরা বা ওলাউঠা-Cholera-2023 Bangla news
কলেরা বা ওলাউঠা
ডা. এ, এন, এ, হোসেন- এম. বি. বি. এস
![]() |
| কলেরা বা ওলাউঠা |
অধিকাংশ ক্ষেত্রে কলেরা রোগের জীবাণু দূষিত পানি সেবনে বা ধুলা, বালি, মাছি ইত্যাদির মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যের সহিদ পেটে যায় । পাঁচা বাশি ইত্যাদি খাদ্যে দ্রুত কলেরা রোগ বিস্তার করিতে সাহায্য করে । কলেরা ভিব্রিও কলেরা নামক এক প্রকার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয় । পেটে রোগ জীবাণু ঢুকিতে না পারিলে কলেরা রোগ হতে পারে না । শরীরের চামড়া ভেধ করিয়া রোগ জীবাণু শরীরের প্রবেশ করিতে পারে না । কলেরা অনেক প্রকার হয়। তাহার মধ্যে এশিয়াটিক কলেরা মারাত্মক । এতে আক্রান্ত হইবার অল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসা না হলে রোগী খুব তাড়াতাড়ি খারাপ পর্দায় যায় এবং প্রাণাশষ্কা দেখা দেয় । কোন কোন কলেরা স্ট্রং ডায়রিয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি করে আবার কতগুলো পেটে খারাপ বা বদ হজমের মতো অবতার সৃষ্টি করে । খাদ্যের সহিত কলেরা রোগের জীবাণু প্রবেশ করে বা মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
লক্ষণ
১। এশিয়াটিক কলেরায় প্রথমে একটি বড় রকমের পায়খানা হয় তারপর বারে বারে পানির মত বেশি পায়খানা হয় ।
২। পায়খানা কোন মল থাকে না চাউল ধোয়ার পানির মত রং হয়।
৩। পায়খানা আরম্ভ হইবার সঙ্গে সঙ্গে বেদবমিও হইতে পারে ।
8। নারীর গতি ক্ষীণ হয়, অনেক সময় নারীর গতি অনুভব করা যায় না ।
৫। শরীর ঠান্ডা হইয়া যায় এবং হাত-পা কুকরাইয়া যায় ।
৬। পিপাসায় রোগী অস্থির হইয়া যায় জিহব্বা ও মুখ শুকাইয়া যায় ।
৭। রক্ত কমিয়া যায় ।
৮। চক্ষু ঢাকিয়া যায়, সুয়ালু সুমাইয়া উঠে গালো হাত পায়ের চামড়া ঢিলা হইয়া যায় এমন পর্যায়ে চিকিৎসা না করিলে রোগীর প্রসাব বন্ধ হইয়া এসিডোসিস হয় ।
কিছু চিকিৎসা করার পর অবস্থা
১। কোলাপস অবস্থায় যে রোগী মারা যায় নাই, ধীরে ধীরে তাহার শরীরে তাপ কিছু কিছু বৃদ্ধি পায় ।
২। নারীর গতি কিছু উন্নতি উপলব্ধি করা যাইতে পারে ।
৩। কাহারো কাহারো প্রস্রাব সামান্য হয়, আবার কারো হয় না।
8। রোগী ছটফট করে এবং ঘন ঘন লম্বা শ্বাস ফেলে ।
ইউরিমিক ট্রেস
এই অবস্থায় প্রসব বন্ধ হইয়া যায় বা প্রসবের পরিমাণ খুব হওয়ায় রক্তে এসিডোসিস রক্তে ইউরিমিয়ার সৃষ্টি হয় ।
শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হয় ।
মলে সহিত নিউ কাজ থাকিতে পারে ।
শরীরের তাপ স্বাভাবিক হইতে পারে ।
জিহব্বা লাল এবং শুষ্ক দেখায় ।
চিকিৎসা
কলেরা রোগীর প্রথম এবং সর্ব প্রধান চিকিৎসা হইতেছে -
Inj. Cholera Saline 1000 ml বা Inj. Kaloride 1000 ml
মাত্রাঃ প্রথমে তরল যত দ্রুত দেওয়া সম্ভব ততটাই দিতে হবে। প্রথম লিটার ১০-১৫ মিনিটে পরবর্তী লিটার ৩০ মিনিটে এবং ইয়ার পর মিনিটে ৮০ ফোটা । রোগী যে পরিমাণ তরল হারাইছে তাহার পূর্ণ স্থাপন করিবার চেষ্টা করিতে হইবে ।
স্যালাইন দিলে নারীর অবস্থা ক্রমে ক্রমে ভালোর দিকে অগ্রসর হইলেও স্যালাইন দেওয়া বন্ধ করা হইবে না ।
বমি বন্ধের জন্য Promethazine Theoclate যুক্ত ঐষুধঃ Tab. Avomin 25mg.
মাত্রাঃ প্রথমে দুটিও পরে একটি কোরিয়া দিনে তিন বার ।
অথবা
বড়িতে বমি বন্ধ না হইলে বা বড়ি খাওয়ার মত অবস্থা না হইলে বমির ইনজেকশন দিতে হবে।
Inj, Emistat, Enj. Motilon
মাত্রাঃ ১ এ্যাম্পুল মাংসের 8/12 ঘন্টা পর পর ।
প্রসব কমিয়ে গেলে Frusemide যুক্ত ওষুধ খাইতে হবে। যেমন Lasix 40 mg (ল্যাসিক্স)
কলেরা প্রতিরোধ পানি বা খাবার খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে কলেরা জীবাণু আসা বন্ধ করলে রোগীর বিস্তার রোগ করা সম্ভব তাই প্রণালী ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা কলেরা প্রতিরোধের মূল বিষয় পানির মাধ্যমে এই রোগ বেশি বিস্তার লাভ করে পানি ফুটাইয়া লইয়া ঠান্ডা করিতে পান করা কিংবা টিউবয়েলের পানি পান করা উচিত। মহামারী দেখা দিলে অ্যান্টিসেপটি সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা উচিত ।
পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা
১। রোগী একটু সুস্থ হলে সব রকমের খাবার খাইবে।
২। এই রোগ ছোয়াছে । তাই রোগীকে পৃথক ঘরে রাখিতে হইবে ।
৩। এই রোগীর ব্যবহার্য কাপড়-চোপড় জীবাণুনাশক ঔষুধ দিয়া পরিষ্কার করতে হবে ।
8। সকল প্রকার কাপড় চোপড় মাটিতে পুঁতে ফেলতে হইবে।
৫। রোগিকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখিতে হইবে।
৬। রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে হইবে ।
৭। বাড়িতে সম্ভব না হইলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে ।
৮। হবে মহামারির সাথে প্রতি ছয় মাস পর পর কলেরা ভ্যাকসিন দিলে এই রোগ থেকে আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা কম থাকে ।
আরো জেনে নিন👇
👉পেটে জরুরি বা সংকট অবস্থা কি?
👉এপেনডিসাইটিজ-(Apendicities) কি?
👉তালিকাতালিকাকিডনি রোগীর খাদ্য তালিকা
👉ডায়ালাইসিস রোগির খাদ্য ও পুষ্টি
👉কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে কত টাকা লাগে
👉গর্ভবতী মহিলার প্রাথমিক কি কি লক্ষন প্রকাশ পায়

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন