গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডিনাল আলসার-(Gastric Ulcer and Duodenal Ulcer)-Bangla News-2023

👉গ্যাস্ট্রিক আলসার-(Gastric Ulcer) ও ডিওডিনাল আলসার-(Duodenal Ulcer)

ডাঃ এ, এন, এ, হোসেন- এম.বি.বি.এস

গ্যাস্ট্রিক আলসারের প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ প্রকাশ পায় না পাকস্থলী হইতে রক্ত নিঃসরণ হইলে বা পাকস্থলী ছিন্ন হইলে গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ পুরোপুরি প্রকাশ পায় ।
গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডিনাল আলসার

👉গ্যাস্ট্রিক আলসার-(Gastric Ulcer)

গ্যাস্ট্রিক আলসারের প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ প্রকাশ পায় না পাকস্থলী হইতে রক্ত নিঃসরণ হইলে বা পাকস্থলী ছিন্ন হইলে গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ পুরোপুরি প্রকাশ পায় । 

👉গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ 

১। খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের অর্ধ ঘন্টা হইতে ২ ঘণ্টার মধ্যে পাকস্থলীতে ব্যাথা হয় । 

২। খাওয়ার পর সাময়িকভাবে ব্যথার উপশম হয় তবে প্রথম খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি ও ভার বোধ হয় । পেটে জ্বালাও বুক জ্বালা করে এবং ঢেকুর ওঠে ।

৩। সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ খাওয়ার সোডা খাইলে কিংবা বমন হইলে ব্যথা কমে যায়।

8। বেশি দিন ভোগার পর রোগীর ব্যথা বেশি হইলে রোগী বমনের চেষ্টা করে, বমনের সহিদ ভাত ও অম্ল পানি বাহির হয় । তবে রক্ত বমি হইতে পারে ব্যথা এবং বমনের ভয়ে রোগী কিছুই না খাইয়া দুর্বল হয়। 

৫। মলের সহিদ রক্ত থাকিতে পারে । ওই অবস্থায় মল আলকাতরার ন্যয় কালো হইতে পারে ।

৬। রোগী ঘুমাইলেও ব্যথার জন্য ঘুম হইতে জাগিয়া হয় ।

৭। ব্যথা দু'এক দিন বন্ধ থাকলেও পরে আবার শুরু হয় ।

৮।প্রয়াই বমি হওয়া ও বমি সহিদ রক্ত আসাও গ্যাস্ট্রিকালচারের লক্ষণ ।

*বেরিয়াম মিল এক্সরে করিলে এই রোগ ধরা পড়ে ।

*এন্ডোসকপি করিলেও রোগ ধরা পড়ে ।

👉ডিওডিনাল আলসার-(Duodenal Ulcer)

পাকস্থলীর নিম্নাংশের ক্ষুদ্রতন্ত্রের প্রথম অংশকে ডিওডেনাম বলে । ইহা প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা । Stomach (স্টমাক) যেখানে শেষ Duodenum সেখানে আরম্ভ । ডিওডেনাম অংশে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয় বলিয়া ইহাকে ডিওডিনাল আলসার বলে ।

👉 ডিওডিনাল আলসারের লক্ষণ 

✡️ খাবার দুই /তিন ঘণ্টা পর ব্যথা আরম্ভ হয় ।

✡️ এই ব্যথার স্থান হইল নাভির কিছু উপরে পেটের মধ্য লাইনের ডান দিকে ।

✡️ কিছু খাইলেই ব্যথা কমে ।

✡️ ব্যথায় রোগী-গভির রাতে ঘুম হইতে জাগে ।

✡️ Sodi-Bi-Carb খাইলে কিংবা বমি হইলে এই ব্যথা কমে ।

✡️ বমির কাদাচিৎ হয় । তবে বমি হইলে উহা পরিমাণে বেশি হয় ।

✡️ বমি সহিদ রক্ত পড়ে না । বমির সহিদ রক্ত পড়া গ্যাস্ট্রিকালচারের লক্ষণ ।

✡️ ব্যথা কিছুদিন থামিয়া থাকে আবার দুই /এক মাস পরে হয়।


👉গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডিনাল আলসারের পার্থক্য

🔯 গ্যাস্ট্রিক আলসার 

*খালি পেটে আরামে থাকে ।

*খাইলে ব্যথা আরম্ভ হয় ।

*ব্যথা নাভির উপরে অনুভূত হয় ।

*আপনা আপনি বমন হয় এবং অপসন হয় ।

🔯 ডিওডিনাল আলসার

*খালি পেটে ব্যাথা হয় ।

*খাইলে ব্যথা কমিয়ে যায় ।

*ব্যথা নাভির উপরে একটু ডাইনে অনুভূত হয় ।

*কাদাচিৎ বমন হয় তবে ব্যথায় গলায় আঙ্গুল দিয়া বমন করিলে ব্যথার উপশম হয় ।

১। রক্তক্ষরণ (Haemorehage)ঃ এই অবস্থায় রক্তপাত এত বেশি হয় যে রোগী অজ্ঞান হইয়া পড়ে এর জন্য রক্তপাতের চিকিৎসা করা দরকার হয় রোগী শীর্ণ এবং ফ্যাকাসে হয়।

২। পারফোরেশন: দীর্ঘদিন যাবৎ আলসারে ভুগিলে পাকস্থলী ফুটা হইয়া যায় । অতঃপর ফুটার ভিতর দিয়ে ভুক্ত খাদ্যদ্রব্য ঢুকিয়া পরিলে পেরিটেনিমামে প্রদাহ হয় । অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন অবস্থায় রোগী মারা যায় । তাই এমন ক্ষেত্রে অস্ত্রোপাচার ছাড়া রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয় ।

৩। পাযইলোরিক স্টেনোসিস (Pyloric Stenosis) : পাকস্থলীর উপরের এবং নিচের প্রান্ত সাধারণত শুরু হয়। ভুক্ত খাদ্য এই পথে পাকস্থলী ক্ষুদ্র প্রান্তে যায়। খাদ্যদ্রব্যের ঐ প্রবেশ পথে আলসার হয় । তাই প্রবেশ পথ আরো শুরু হইয়া খাদ্য দ্রব্যের প্রবেশপথ ক্রমে ক্রমে বন্ধ হইয়া যায় । ফলে কোন খাদ্য ক্ষুদ্রতন্ত্রে পৌঁছাতে পারেনা এবং ভুক্ত খাদ্যদ্রব্য বমি হইয়া বাহির হয়। এই অবস্থার নাম হইলো পাইলোরিক স্টেনোসিস । ইহার ফলে রোগী প্রত্যহ বমি করে, পেটে ব্যথা হয় এবং রোগী  দুর্বল হয় । অনেক সময় দুই/এক দিন পর খাওয়া খাদ্য বমির সহিদ  পঁচা ও দুর্গন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এমন ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল অপারেশন অপরিহার্য ।

8। গ্যাস্ট্রোজেজুন্যাল লালসার (Gastrojejunal Ulcer): ডিওউিনাম যেখানে  শেষ জেজুনাম সেখানে আরম্ভ । আলসার বেশি দিনের পুরাতন হইলে ঘা বড় হইয়া জেজুনাম আক্রমণ করে । পেপটিক আলচারের মতো ইয়ারা জেজুনাম আক্রমণ করে । পেপটিক আলচারের মতোই ইহার চিকিৎসা ।লক্ষণের উপর নির্ভর করিয়া অপারেশনের কথা ভাবতে হয় ।

 👉উপদেশ 

রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে রাখিতে হইবে । সান্ত্বনা দিয়ে রোগির মানসিক উদ্যোগ বা অশান্তি দূর করিতে হইবে । রোগীর সহযোগিতা এই রোগের চিকিৎসার প্রধান অঙ্গ । লক্ষণের উপর নির্ভর করিয়া চিকিৎসা করিলে ফল ভালো পাওয়া যায় ।

👉গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডিওডিনাল আলসার-(Gastric Ulcer and Duodenal Ulcer Treatment) চিকিৎসা.

১। অত্যাধিক পেটের ব্যথার জন্য Hyoscine-N-Butayal Bromide যুক্ত ঔষধঃ

Inj. Buscopan বা, Inj./Tab. Buscolysin 20mg. বা, Inj. /Tab. Hysomide 20mg. বা, Inj./Tab. Spanil 20mg.

মাত্রাঃ একটি  এ্যাম্পুল মাংসে ইনজেকশন দেওয়া হয় প্রয়োজনের চার ছয় ঘন্টা পর পর ব্যথা কমে গেলে আবার বেদনা নাটক বড়ি খাইতে দেওয়া যায় এক বড়ি দশ মিলিগ্রাম 

মাত্রাঃ 1/2 বরি করিয়া দিনে তিন বার ।

অথবা,

🔯 Oxyphenonium Bromide যুক্ত ঔষধঃ

Tab. Antrenyl 5mg. বা, Tab. Antrenex 5mg. বা, Tab. Oxyphen 5mg. বা, Tab. A-Spasm 5mg.

মাত্রাঃ হাফ বা এক বড়ি করিয়া দিনে তিন বার খাবার পূর্বে সেব্য ।

অথবা,

🔯 সাধারণ ব্যথা ও মারাত্মক ব্যথায় Ketoprofen যুক্ত ইঞ্জেকশনঃ

Inj. Profenid 100mg. বা, Inj. Keto-A 100mg. 

মাত্রাঃ সাধারণ ব্যথায় ১০০ এম.জি মাংসে ইনজেকশন দেওয়া যায় । প্রয়োজনে বোধে ১২ ঘন্টা পর পর আবার দেওয়া যাইতে পারেন, দিনে দুই বার ।

২। যাদের খাবার পর বমি হয় বা মুখ দিয়ে অম্ল পানি বাহির হয় বা চুকা ডেকোর আকারে বমি হয় বুকে পুড়ে উঠে পানি বাইর হয় বা ফেনাযুক্ত বমি বা ঢেকুর হয় তাদের জন্য Metoclopramide যুক্ত ঔষধঃ

Tab. Flatilon 10mg. বা, Tab. Maxil 10mg. বা, Tab./ Sy. Maxocol 10mg. বা, Tab./Sy. Metocol 10mg. বা, Tab./ Sy. Motilon 10mg.

মাত্রাঃ হারের 5-10 মিনিট পূর্বে এক ভরি করিয়া দিনে তিনবার তরল আহারের আগে এক দুই বা এক চামচ করে দিনে তিনবার বেশি দিন খাইলে Perkinson রোগ হইতে পারে । সেজন্যঃ

Tab. Perkinil 5mg. বা, Tab. Kdrine 5mg.

মাত্রাঃ হাফ বড়ি করে দিনে দুই/ তিন বার ।

অথবা,

✡️ যাদের বাড়িতে কষ্টের লাঘব হয় না সে ক্ষেত্রে ইনজেকশন আকারেঃ

Inj. Motilon (মটিলন)

মাত্রাঃ একটি কোরিয়া ইনজেকশন দিনে এক/ দুই বার ।

অথবা,

🔯 বুক জ্বালা (Hearth burn), বমি বমি ভাব (Nausin), বমি(Vomiting), পেট ভার বোধ হওয়া প্রবৃত্তিতে Domperidone যুক্ত ঔষধঃ

Tab. Peridon. বা, Tab. Motigut. বা, Tab. Domillin. Tab. Domin. বা, Tab. Omidon.

মাত্রাঃ খাবার  15 মিনিট পূর্বে 1 +1 +1  । এই ওষুধ খাইতে দিলে এর সঙ্গে তরল না দেওয়া ভালো ।

৩। গ্যাস্ট্রিক আলসার বা ডিওডিনাল আলসার বা পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক হাইপার এসিডিটির ক্ষেত্রে রোগীকে Cimetidine গ্রুপের ওষুধ দেওয়া যায়ঃ

Tab. Cemitid 200mg. বা, Tab. Receptin-A 200mg. বা,  Tab. Seemet 200mg. বা, Tab.Tab.  Tagamet. বা, 200mg.200mg. বা, Tab. Ulcerid 200mg.

মাত্রঃ ১ বড়ি করিয়া দিনে দুই বার খাবার মাঝে এবং দুই বড়ি রাত্রে সেব্য । ছয় সপ্তাহে বা তদুদ্ধ । কম বয়সের বালক বালিকাকে দেওয়া যাইবে না (বর্তমানে এ জাতীয় ওষুধের ব্যবহার কম) ।

অথবা, 

🔯 বর্তমানে Renitidine এই গ্রুপের ওষুধ বহুল পরিচিতঃ

Tab. Xantid 150mg. বা, Tab. Neoceptin-R 150mg. বা,  Tab. Neotack 150mg. বা,  Tab. Ranidin 150mg. বা, Tab. Ranitid 150mg. বা, Tab. Zantac Tab. 150mg. বা, Reetac -R150mg. বা,  Tab. Ulcar 150mg.

মাত্রাঃ এক বড়ি করিয়া দিনে দুই বার খাবার পর অথবা শুধু রাত্রে খাবার পর ৩০০ এম.জি এর এক বড়ি চার/আট সপ্তাহ । মেইনটেন্স ডোজ এক বড়ি রাতে খাবার পর । আট বছর বয়সের নিচে কাউকে দেওয়া যাবে না ।

অথবা,

ডিওডিনাল আলসার, গ্যাস্ট্রিক আলচার এবং দীর্ঘস্থায়ী পাকস্থলীর প্রদাহ ইত্যাদি চিকিৎসায় Sucralfate 500mg. যুক্ত ঔষুধ দ্বারা ধূমপায়ীদেরও সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা করা যায়। যে সমস্ত রোগী ধূমপায়ী Sucralfate  চিকিৎসার আওতাভুক্ত, তাদের বেলায় আলসার পুনরাবৃত্তিতে ধূমপানের প্রভাব খুবই কম ।

Tab. Gastalfet 500mg. বা, Tab. Ulsanic 500mg. বা, Tab. Sucralet 500mg. বা, Tab. Gastronic 500mg. বা, Tab. Antepsin 500mg.

মাত্রাঃ পূর্ণবয়স্কদের আহারের এক ঘণ্টা পূর্বে এক/ দুই বড়ি এক গ্রাম করে দিনে চার বার চার সপ্তাহ।বালক বালিকাদের দেওয়া যাইবে না অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সেব্য ।

প্রতিদিন সর্বোচ্চ মাত্রায় ৮ গ্রাম করিয়া দেওয়া যাইতে পারে।

🔯 Famotidine যুক্ত ঔষুধঃ

Tab. Famotid 20/40mg. বা, Tab. Servipep 20/40mg. ইত্যাদি ।

মাত্রাঃ ২০/ ৪০ এম.জি এর এক বড়ি সকালে ও এক বড়ি রাত্রে অথবা ৪০ এম.জি এর এক বড়ি রাত্রে ।

সাধারণভাবে ক্ষত উপশমের জন্য ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের চিকিৎসা প্রয়োজন  হয় । কিন্তু রেজিস্ট্রেট রোগীদের ক্ষেত্রে 12 সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হইতে পারে।

গর্ভবতী মায়েদের কিংবা কম বয়স্ক বালক বালিকাদের দেওয়া চলিবে না ।

অথবা,

✡️ Roxatidine যুক্ত ঔষুধঃ

Tab. Roxit 75/150 mg.

ডিওডিনাল আলসার মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক আলচার ও ইসোফোগাসে ব্যবহার করা যায়।

মাত্রাঃ ৭৫ এম.জি ১ বড়ি সকালে ও এক বড়ি রাত্রে অথবা ১৫০ এম.জি এর এক বড়ি রাত্রে । বড়ি চিবাইবেন না গিলিয়া ফেলবেন।

🔯 তীব্র ও খুব পুরাতন ডিওডেনাল আলসার এবং গ্যাস্টিক আলসার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় যোগ্য । তাই Omeprazole যুক্ত ঔষুধঃ

Cap. Opmepra 20mg. বা, Cap. Losectil 20mg. বা, Cap. Ometid 20mg. বা, Cap. Seclo 20mg. বা,  Cap. Presec 20mg. ইত্যাদি ।

মাত্রাঃ প্রতিদিন সকালে নাস্তার দুই ঘণ্টা পর এক বড়ি এবং রাত্রে আহারের পর এক বড়ি দিনে একই সময়ে দুই মাস ।

অথবা,

🔯 Lansoprazole যুক্ত ঔষুধঃ

Cap. Lanso 15/30mg. বা, Cap. Zoton 30mg. বা, Cap. Anjo 15/30mg.

🔯 Pantoprazole যুক্ত ঔষুধঃ

Tab. Pantonix বা, Tab. Proton-p

মাত্রাঃ 1 + 0 + 1 বা, 1+ 0 + 0  (1 বড়ি= 20/40mg.)

8। গ্যাসের জন্য তরল আকারেঃ অম্ল, ঢেকুর, পেট ফাঁপা ও গ্যাস কমাবার জন্য দ্বিগুণ শক্তিশালী Semithicone যুক্ত ঔষধঃ

Almex susp বা, Antanil Susp. বা, Entacyd Susp বা, Sy. Flatameal-DS বা, Entacyd plus বা, Avlocid, Alucil-S বা, Navacid plus ইত্যাদি।

অথবা,

🔯 অন্ত্রে এন্টাসিডের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ধরে রাখার জন্য Magaldrate যুক্ত ঔষধঃ

Susp. Oxecone-M বা, Susp. Megaplus বা, Susp. Magacil.

মাত্রাঃ হারের ১-২ ঘন্টা পরে 2 চামচ করিয়া ওষুধ দিনে তিন বার খাইবে।

৫। রক্ত বমি বা কালো পায়খানার জন্যঃ

Inj. Anaroxyl বা, Inj. Trostin-M.

মাত্রাঃ না কমা পর্যন্ত পড়তে হয় এক দুইটি করে ইনজেকশন মাংশে দিতে হইবে।

অথবা,

Inj. Caprolysin 4/6  ঘন্টা পর পর ৫ সি.সি করিয়া মুখে খাইবে ।

৬। রোগী খুব দুর্বল বা ডি-হাইড্রেট হইলে রোগীকেঃ

Inj. Opso Salin বা, Inj. Dexaqur বা, Inj. Libott  500/1000 C.C হইতে 6 C.C. Inj. Vitamin B Complex এবং Inj. Ascoson 1 টি দিলে ভাল হয়।

*মুখে কিছু খাদ্য দেওয়া নিষেধ

ক্ষত স্থান ছিন্ন হইলে, রক্ত বমিও কালো পায়খানা বন্ধ না হলে বা কোন রকম জটিলতা দেখা দিলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠাইতে হইবে।

৭। মানসিক অস্থিরতা ও ঘুমের জন্যঃ

Tab. Sedil 5mg. বা, Tab. Easium 5mg. বা, Tab. Seduxin বা, Tab. Bopam 3/5mg

সেবনবিধিঃ অর্ধ বা বড়ি করিয়া দৈনিক দুই বার প্রয়োজন বোধে বয়স অনুসারে মাত্রা কম বেশি করা যাইতে পারে । 

৮।পায়খানা পরিষ্কার হইলেঃ

Magnamilk বা, Megamilk, বা, Milk of Magnesia.

মাত্রাঃ দুই/ চার চামচ ওষুধ রাত্রে শুইবার পূর্বে সেব্য ।১ বছরের নিচে হাফ চামচ এক/ পাঁচ বছর এক চামচ ৬// ১২ বছর ২ চামচ ও বয়স্ক চার চামচ করে রাতে এক বার সেব্য ।

৯। শরীরের দুর্বলতার জন্য ভিটামিনযুক্ত ঔষধঃ

Sy. Aristoplex বা, Beconex বা, Sy. Vitaplex বা, Neutravit বা, Sy. Plexamin-B.

মাত্রাঃ আহারের পর দুই চামচ করিয়া দিনে তিন বার।

👉পথ আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা 

রোগী ঔষধ খাওয়ার পর একটু সুস্থ হলে তাকে ওষুধ পত্র নিয়ম মাফিক দীর্ঘদিন চালাইতে হবে। প্রথম অবস্থায় লুঘু সহজ পাচ্য পথ্য ছাড়া কিছুই দেওয়া যাইবে না । পরে অবস্থার উন্নতি হইলে নরম ও টাটকা ও ছোট মাছের ঝোল ভাত খাইতে দেওয়া যাইতে পারে। 

👉আলছারের রোগী যাহা নিষেধ 

1) খালি পেটে থাকা ।

2) উত্তেজক খাওয়া।

3) টক জাতীয় খাদ্য খাওয়া ।

4) শাক জাতীয় খাদ্য খাওয়া ।

5) মদ, পান, চা, বিড়ি, সিগারেট, ইত্যাদি খাওয়া ।

6) গরুর মাংস, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ, বোয়াল মাছ, গাজার, চিংড়ি, বাটকা পুঁটি ইত্যাদি মাছ খাওয়া ।

7) পাঁকা পেঁপে বা পেঁপের তরকারি খাওয়া ।

8) দুঃচিন্তা, অধিক রাত্রি জাগরণ, দৈহিক পরিশ্রম সর্বোচ্চভাবে পরিত্যাজ্য ।

9) পান পাতা, জর্দা ইত্যাদি খাওয়া যাইবে না।

মোট কথা ডাল, টক, দধি, ঝাল, বাসি, তৈলাক্ত বা চর্বি জাতীয় মাছ-মাংস, ভাজা-ভুজি, অধিক মসলাযুক্ত খাদ্য খাওয়া নিষেধ ।

🔯🔯 রোগ হলে ঔষুধ খেতে হবে, তবে ঔষুধ সঠিক ভাবে খেতে হবে । আর সঠিক ঔষুধ কোনটি সেটি বোঝার জন্য একজন ডাক্টারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। আশাকরি ঔষুধ কেনার সময় অবশ্যই ডাক্টারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন !

আরো পড়ুন...


আরো জেনে নিন👇

👉পাকস্থলীর প্রদাহ-(Gastrities)

👉পেট ফাঁপা (Flatulanch) রোগ ও চিকিৎসা

👉অজীর্ণ রোগ ও চিকিৎসা

👉বদহজমজনিত ডায়রিয়ার ঔষুধ ও চিকিৎসা

👉এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি বা আমাশয় -(Amoebic Dysentry)-

👉পুরাতন ডায়রিয়ার চিকিৎসা

👉আমাশাজনিত ডায়রিয়ার চিকিৎসা

👉ডায়ারিয়া কি? ডয়রিয়ার চিকিৎসা

👉কলেরা বা ওলাউঠার কারন ও চিকিৎসা

👉অর্শ বা পইল্স এর চিকিৎসা

👉কোষ্ঠকাঠিন্য কি কেন হয়?











মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইন্টেসটিন্যাল টি, বি, জনিত ডায়ারিয়া Diarrhoea from T. B. of Intestine)-Bangla News-2023

হিরো আলম- "Hero Alom" Human of the bangladesh-বাংলা নিউজ-2023

অন্ত্রের প্রদাহ/ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র প্রহাহ/ননস্পেসিফিক আলচারেটিভ কোলাইটিস (Enteritis and Colitis)- বাংলা নিউজ-২০২৩