খাদ্য সংবহনতন্ত্রের রোগ-Bangla news-2023
খাদ্য সংবহনতন্ত্রের রোগ
ডাঃ এ, এন, এ, হোসেন-এম.বি.বি.এস
![]() |
| খাদ্য সংবহনতন্ত্রের রোগ |
২। জিহবা প্রদাহ।
৩। মারিতে ফোঁরা
8। কলেরা বা ওলাউঠা।
৫। ডায়রিয়া।
৬। পেটের যে কোন ব্যথা।
৭। যে কোন বমি।
৮। হিক্কা বা হেচকি।
৯। ফুড ফয়জনিং।
১০। পুরাতন ডায়রিয়া।
১১। এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি।
১২। রক্ত আমাশা।
১৩। বদহজম জনিত ডায়রিয়া।
১8। কোষ্ঠকাঠিন্য
১৫। পেট ফাপা।
১৬। গ্যাসটিক আলসার
১৭। পিত্ত পাথরী।
১৮। জন্ডিস বা পান্ড রোগ
১৯। অর্শ
২০। পাকস্থলির ক্যান্সার।
🔯🔯 নিম্নে বিস্তারিত ভাবে আলোচণা করা হলো।
👉১। অজীর্ণ রোগঃ
কোন কারনে পরিপাকতন্ত্রের হজমের কাজ ঠিকমত না হইলে অজীর্ণ রোগ সৃষ্ট হয়। বছরের যেকোন সময় এই রগ হতে পারে। সাধারণত গুরুপাক খাদ্য উত্তেজক বা চর্বিযুক্ত খাদ্য কিংবা অনিয়মিত খাবার খাইলে এই রোগ হয়ে থাকে। আবার মানসিক চিন্তা, উত্তজনা, বেশী পরিমান চা, কফি, সিগারেট কিংবা রাত্রি জাগরন করলেও এই রজীর্ণ রোগ হতে পারে।
👉২। জিহ্বা প্রদাহ- Glossitis:
সাধারণতঃ ভাইটামিনের অভাব, ঠান্ডলাগা, পানে চুন বেশি খাওয়া, লৌহ জাতীয় খাদ্যে অভাবে জিহ্বার প্রদাহ হয়ে থাকে।
👉৩। মাড়িতে ফোঁড়া GumBoill:
প্র্ত্যহ সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে দাঁত ও মুখ ভালভাবে পরিস্কার করা প্রত্যেকেরই উচিত। ইহা ঠিকমত না করলে কিংবা খাওয়া দাওয়া করে ভালভাবে কুলকুচা না করিলে দাঁতের মধ্য ও মারিতে খাদ্য দ্রব্য জমিয়া এই রোগের সৃষ্টি হয়। আবার শরীরের ক্যালসিয়ামের অভাবে এই রোগ হয়।
👉8। কলেরা বা ওলাউঠা।
সংক্রোন ব্যধিগুলোর মধ্যে কলেরা অন্যতম। ইহা একটি মারাত্নক ব্যধি। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই মারন্তক ব্যধির কবলে পরিয়া মৃতুবরন করে। আবাল বৃদ্ধ-বনিতা সবাই এই রোগে আকরান্ত হতে পারে। অধিকাংশে কলেরা রোগের জীবাণু দুষিত পানি সেবনে ও ধুলা, বালি, মাছি ইত্যাদির মাধ্যমে খাদ্য দ্রব্যর সহিত পেটে চোলে যায়, পচা ও বাসি খাবার খেয়েও কলেরা হয়। কলেরা ভিব্রিক কলেরা নামক একটা জিবানু দ্বারা সংক্রাামিত হয়।
👉ডায়রিয়া- Diarrhoea
যখন মল পাতলা হইয়া তরল আকারে বার বার হয় বা তরল আকারে বেড়িয়ে যায় তখন ঐ অবস্থাকে ডায়রিয়া বলা হয়।
ডায়রিয়া দুই প্রকার হয়ে থাকে
ক) মারাত্নক ডায়রিয়া ডায়রিয়া।
খ) পুরাতন ডায়রিয়া।
👉৬। পেটের যে কোন ব্যথা- Ani pain of the Stomach
বাংলাদেশে শতকরা ৭০ হইতে ৮০ জন লোক ভিন্নপ্রকার পেটের অসুখে ভোগে। ইহার মূল কারন হইলো ভেজাল, গুরুপাক, ভাজা পোড়া ইত্যদি খাবার খাওয়ার জন্য হয়ে থাকে।
পেটের ব্যথা বিভিন্ন করনে হয়ে থাকে, শতকরা ৬০ জন লোকের এসিড বা গ্যসের কারনে পাকস্থলিতে ক্ষত হইবার জন্য পেটে ব্যথা হয়ে থাকে, ভাজা পোড়া খাবার খেয়ে পেট ফাঁপা হয়েও পেট ব্যথা হয়।
👉৭। যে কোন বমি- Ani Vomiting
পেটের ভিতরের খাদ্য দ্রব্য, পানি, পিত্ত অর্থাৎ যে কোন জিনিস মুখ দিয়ে বাহিরে বের হওয়ার নামই বমি। বহুবিধ কারনর এই বমি হতে পারে, যেমন- পেট গরম হলে, গুরুপাক খাদ্য খেলে, বদহজম জনিত কারনে, যানবহনে চড়িলও বমি হতে পারে, পাকস্থলিতে এসিড বেশি হলে, ডায়রিয়া হলে, কলেরা হলে, জ্বর বেশি হলে, গর্ভের প্রাথমিক অবস্থায়, ইত্যাদি কারনে বমি হয়ে থাকে।
👉৮। হিক্কা বা হেঁচকি- Hiccough
শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহন ও ফেলার সময় হঠাৎ মাঝ পথে বাধা প্রাাপ্ত হইলে হিক্কার সৃষ্ট হয়। সকলের নিকট ইহা হিক্কা নামে পরিচিত, ডায়াফ্রাম নামে একটি পর্দা দ্বারা পেট দুই ভাগে ভিবক্ত। এই ডায়ফ্রমের মাংশপেশি সংকোচিত হইলে হিক্কার সৃষ্টি হয়। খাদ্যনালীতে তামাক, জর্দা,এই ধরনের ঝুকিপূর্ণ জিনিস প্রবেশ করিলে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ডায়াফ্রম সংকোচিত হয়ে হিক্কা বা হেচকি হয়।
👉৯। ফুড পয়জনিং-Food poisoning
কোন কারনে খাদ্যে রোগ জীবানু বংশবৃদ্ধি করিয়া খাদ্যে বিষাক্ত করলে এবং সে খাবার কেহ খেলে বিষাক্ত খাবারের জন্য ফুডপয়জনিং হয়ে থাকে। এছাড়াও আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেলাপোকা, আরশোলা, টিকটিকি, ইদুর, প্রভৃতি দ্বারা ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে। আবার অল্প জালে দিদ্ধকরা খাবার খেলেও, পিতল বা কাশা পাত্রে খাবার রাখিলে পিতল ও কাসার দস্তা খাবারের সঙ্গে মিশে বিষকৃয়া করে। এই রোগে আকরান্ত ব্যক্তি খাবার রান্না বা খাবার পরিবেশন করলে রোগের জিবানু খাবারে মিশ্রিত হলে এবং সেই খাবার খেলেও ফুড পয়জনিং হতে পারে।
👉১০। পুরাতন ডায়রিয়া-Chronc Diarrhoea
অনেক করনেই পুরাতন ডায়রিয়া হতে পারে, বদহজম হতে পুরাতন ডায়রিয়া, জীবানু ও প্যরাসাইড হইতে পুরাতন ডায়রিয়া। ক্ষুুদা না লাগা, রক্তহীন ও দুর্বল হওয়া, পায়ে বা মুখে রস ধরা, শরীর ক্ষীন হইয়া যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা য়ায়।
👉১১। এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি।
বার বার মিউকাস যুক্ত মল ত্যগ করাকে ডিসেন্টি বা আমাশয় বলে। মলে অল্প বা বেশি পরিমান অম্ল থাকতে পারে।
🔯 এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি দুই প্রকার যথা-
ক) এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি বা শাও আমাশা।
খ) বেসেলারী ডিসেন্ট্রি বা রক্ত আমাশয়।
এ্যামিবা নামক এক প্রকার প্রটোজোয়া দ্বারা এ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি ঘটিয়া থাকে। এই জিবানু খাদ্য ও পানির সহিদ মানব দেহে প্রবেশ করে বৃহদন্ত্র আকরান্ত করে, এই রোগ সকল বয়সের লোকের হতে পারে। তবে আনুমিনিক হারে বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের কম হয়ে থাকে। রোগীর জ্বর থাকে না কিন্তু মলে দুর্গন্ধ থাাকে, মল পরীক্ষয় রিয়্যকশন এসিড পাওয়া যায়, মল ত্যগের পূর্বে পেটে ব্যথা ও কামড়ানী থাকে এবং ব্যথা খুব কষ্টদায়ক হয়ে উঠে। ঘন ঘন পায়খানা হয়।
👉১২। রক্ত আমাশায়- Bacillary Dysentry
শিগা, ফ্লেক্সনার ও জীবানু দ্বারা বেসেলারী ডিসেন্ট্রি বা রক্ত আমাশায় রোগ হয়ে থাকে! ইহারা সকলেই গ্রাম নেগেটব জীবানু। স্যত স্যতে যায়গায় কিংবা অপরিস্কার স্থানে যেখানে বহু লোক একত্রে বাস করে সেখানে এই রোগ বহুল পরিমানে হয়ে থাকে এবং ব্যপোক বিস্তার লাভ করে। পানি, খাদ্য, এবং মাছির মাধ্যমে এই রো সংক্রোমিত করে থাকে।
👉১৩। বদহজম জনিত ডায়রিয়া- Indigestive Diarrhoea.
সাধারন্ত অতিরিক্ত গুরু পাক খাদ্য, বাজারে বা রাস্তা ঘাটে ভাজা পোড়া, কাচা ফল ইত্যদি খাবার খাইলে বদহজম জনিত প্রবলেম হয়। এই ডাইরোয়ায় ধুমা ঢেকুর হয়, পেট ফুট-ফাট করে। হঠাৎ পেট ব্যথা হয়, পেটের ভিতর কিন কিন করে উঠে খামচা দিয়ে নাভি চাপিয়া ধরে, পাতলা পায়খানা ও হতে পারে, পেট ভার হয় ও বমি বমি ভাব হয়, আবার বুক পুড়িয়া উঠে।
👉১8। অজীর্ণ রোগ- Dyspepsia
কোন কারনে পরিপাকযন্ত্রের হজমের কাজ ঠিক মত কাজ না করলর অজীর্ণ রোগ সৃষ্টি হয়। বছরের যে কোন সময় এই রোগ হতে পারে, সাধারণত গুরুপাক খাবার, চিন্তা, টেনশন, বেশি পরিমান চা কফি খাওয়া সিগারেট বিড়ি কিংবা অধিক রাত জাগিলে এই রোগ হয়ে থাকে।
এই রোগ বেশি দিন বা বছরের পর বছর থাকলে এই রোগে ভুগিতে ভুগিতে পেট রোগা হয়ে যায়, এই সমস্থ রোগীর ক্ষিদামন্ধা, অরুচি, বুক পরিয়া উঠা, বুক জালা পোড়া , আবার কখনো ভকসা মল ত্যগ করা কখনো পাতলা পায়খানা প্রভৃতি লক্ষন দেখা দিতে পারে।
👉১৫। পেট ফাপা- Flatulance
পেট ফাঁপা কোন রোগ নয়, এটি একটি রোগের লক্ষণ মাত্র। বিভিন্ন রোগের কারনে বা রোগে ভোগার জন্য এই লক্ষণ শরীরে দেখা দিতে পারে, পুরনো আমাশায়, অম্ল, টাইফয়েড, অজীর্ণ, উদারানয়, ইত্যদি রোগে ভোগার জন্য পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। খাবারে অনিয়ম, কাঁলা জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য, ভিটামিন বি এর অভাবে এই রোগ হতে পারে।
👉১৬। গ্যাসটিক আলসার-Gastric Ulcear
গ্যাসটিক আলসার প্রাাথমি অবস্থায় ইহার লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পাকস্থলী হতে রক্ত নিঃসরন হইলে গ্যস্টিক আলসারের লক্ষন পুরো পুরি প্রকাশ পায়। খবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘন্টার মধ্য পাকস্থলিতে ব্যথা শুরু হয়, খাবার পর সাময়িক ভাবে ব্যথার উপশম হয়। বুক জ্বালা পোড়া ও ঢেকুর উঠে, ঘুমের ব্যঘাত ঘটে, বমি বমি ভাব হয়, এন্ডোসকপি করিলে রোগ ধরা পরে।
👉১৭। কোষ্টকাঠিন্য -Constipation
ভুক্ত খাদ্য দ্রব্য প্রয়োজনিয় অংশ বাদে অসার অংশ ১২ থেকে ২8 ঘন্টার মধ্য বাহির না হওয়াকেই কোষ্টকাঠিন্য বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় ২8 ঘন্টায় কেউ এক বার আবার কেউ ২ বার মল ত্যগ করে। একেক জনের মল ত্যগের নিয়ম একেক রকম। কেউ আবার ২/৩ দিন পর পর মল ত্যগ করে।এই জন্য তাহার কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কোষ্টকাঠিন্য হলে মল ভান্ডার থেকে সম্পূর্ণ মল নিঃসৃত হয় না। সোজা কথা কেউ যদি ৩ দিন পর পর মল ত্য করিয়া যদি কোন অসুভিদা ভোদ না করে তবে তবে সেটা কোষ্টকাঠন্য বলা যাবে না। পায়খাবার বেগ আসলেই পায়খানা করা উচিত তবে এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। কোষ্টকাঠিন্য ২ প্র কার
ক) কোলোনিক কোষ্টকাঠিন্য।
খ) রেস্টাল কোষ্টকাঠিন্য।
👉১৮। পিত্ত পাথরী- Gall Stone
গল ব্লাডার থেকে জমান পিত্ত, পিত্তবাহী নলী দিয়ে ধিরে ধিরে Dudenum এর মধ্য পিত্ত হয়, অনিয়মিত খাদ্যভাসের জন্য অনেক সময় এই পিত্ত জমাট বেঁধে যায় এবং ইহা ক্ষুুদ্র প্রস্তর কণায় পরিণিত হয়। এই পিত্ত কথা সবুজ, কালো, বিভিন্ন রং এর হয়। কখনো একটি বা একাধিক পাথর জন্মায়। তবে সুষ্ক ও মসরিন পাথর হলে আপনা আপনি বেরিয়ে আসে, এই রোগের সঠিক কোন কারন আজো জানা যায় নি। এই রোগের অন্যতম কারন হল পিত্তকোষের স্থানে অল্প অল্প ব্যথা অনুভুত হয়। জন্ডিস, স্বাস-প্রাশ্বাসের কষ্ট, পিত্ত বমি প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়।
👉১৯। পাকস্থলীর ক্যান্সার- Cancer of the Stomach
অল্প বয়স্ক লোকের এই রোগ খুবই কম হয়। সাধারণত চল্লিশ বছরের উপরের ব্যক্তদের এই রোগ হয়ে থাকে। পাকস্থলির খাদ্য , গ্যাসটিক, জুস হইতে এই ক্ষত সৃষ্টি হয়। এই ক্ষতে এমন পরিবর্তন দেখা যায় যাহা দুষিত ও দূরারিগ্য ঘায়ে পরিণিত হয়। এই ক্ষত বা ক্যান্সার বিভিন্ন প্রকৃতির। এই দুষিত ক্ষত শরীরের রক্ত দেহ কোষকে দুষিত করিয়া ফেলতে পার ঐ রক্ত লিভারে পৌছে সেখানেও ক্যন্সার সৃষ্টি হয়। পেট ব্যথা, দুর্বল ভাব, বমি ভাব, রক্তহিনতা ইত্যাদি দেখা দেয়। আরো পড়ুন...
🔯আরো জেনে নিন👇
👉[উচ্চ রক্তচাপের প্রাাথমিক কারন ও চিকিৎসা]

Nice
উত্তরমুছুনnc
উত্তরমুছুন