দন্ত বা দাঁতের ক্ষয়- Dental Caris- Bangla news-2023
দন্ত ক্ষয়-Dental Caris
ডা. এ, এন, এ, হোসেন-এম.বি.বি.এস
🔯 দন্ত রোগ বা লক্ষণঃ
তন্তক্ষয় রোগ দাতের একটি জীবাণুজনিত রোগ । প্রায় সব দেশের লোকেরই এক বা একাধিক দাঁত এই রোগে আক্রান্ত হইয়া থাকে । বিশুদ্ধ চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণের অভ্যাসের সাথে এ রোগের যোগাযোগ আছে । শর্করা বা চিনি জাতীয় বিশুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করিয়া দাঁত পরিষ্কার না করিলে দাতে লাগিয়ে থাকে এবং ওইসব খাদ্য বস্তুর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু বংশ বৃদ্ধি করে। ওইসব জীবানুর মধ্যে এসিড প্রস্তুতকারী জীবাণুগুলি তাহাদের সৃষ্ট এসিডের সাহায্যে দাঁতের এনামেল ও ডেনটিনের ক্ষয় সাধন করে । এইভাবে জীবাণুজনিত কারণে দাঁতের গায়ে সৃষ্ট ক্ষত বা গর্তকে দাঁতের ক্যারিজ বা দ্বন্দ্বক্ষয় রোগ বলে ।
এই রোগ সাধারণত প্রথম দিকে আক্রান্ত ক্ষতটিতে এনামেলের উপর একটি কালো দাগের মতো দেখা যায় । আস্তে আস্তে উভয় একটি ছোট গর্তে পরিণত হয় ও গর্তে অতি সহজেই খাবারো জীবাণু জমিয়ে থাকে এবং কতটি ক্রমান্বয়ে বড় হইতে থাকে এইভাবে কতটি এনামেল হইয়া ডেন্টিনে প্রসারিত হয় এই রোগ ডেন্টিনে প্রসারিত হইলে ঠান্ডাও গরম পানি গ্রহণের সময় দাঁত শিরশির করে চিকিৎসা না হলে ক্ষত ক্রমান্বয়ে গভীর হইয়া যায় প্রসারিত হয় এবং উহাতে প্রদানের সৃষ্টি হয়।
দন্ত ক্ষয় রোগের পরিমাণঃ দন্ত ক্ষয় বাকি একটি জীবাণিজনিত রোগ যে ধরনের জীবাণু রোগের সৃষ্টি করে তার মধ্যে স্ট্রে্পটোকক্কাস ও ল্যাকটোবেসিলাস নামক জীবাণুই প্রধান । সাধারণ কোথায় এই রোগে দাঁতের পোকা লাগাও বলা হয় কিন্তু সত্যিকারে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ছাড়া দাঁতের পোকার কোন অস্তিত্ব নাই কি কারনে ও কিভাবে এ রোগের উৎপত্তি হয় তাহা নিয়ে পৃথিবী নানা দেশে বহু গবেষণা হইয়াছে এবং হইতেছে এসব গবেষণা থেকে অনেক মূল্যবান তথ্য প্রকাশিত হইলেও এই ব্যাপারে পুরোপুরি তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি । সাধারণভাবে বলা যায় যে দাঁতের গায়ে জমে থাকা খাতা দরবের উপর অন্য প্রস্তুতকারী জীবাণু স্থায়ীভাবে অম্ল সৃষ্টি করে যাহা দাঁতের ক্ষয় সাধন করে এবং দাঁতের গায়ে ক্ষয় বা গর্তে সৃষ্টি করে। এটাই দন্ত ক্ষয় রোগ বা কেয়ারিজ । জীবাণু প্রলেপ, ডেন্টাল বা প্লাগ বা ব্যকটেরিয়াল প্লাগ মুখে সাধারণতঃ বিভিন্ন ধরনের জীবাণু অবস্থা করে । আহারের পর মুখ ও দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার না করিলে ঐসব জীবানু দাঁতের লাগিয়া থাকা খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং এইভাবে লক্ষ্য লক্ষ্য জীবাণু জমে ওঠে এ ধরনের জীবানু স্তরকে ব্যাকটেরিয়াল প্লট বলে সহজ কথায় ভোরবেলা যে আঠালো তার সাদা বস্তুর মুখের মধ্যে পাওয়া যায় ইহাই জীবাণুর প্রলেপ এই প্রলেপের শতকরা ৭০-৭৫ ভাগই বিভিন্ন আকার ও প্রকারের জীবাণু দ্বারা ও গঠিত বা বাকি ২৫ ৩০ ভাগের অধিকাংশই পচা খাদ্য বস্তু পরীক্ষা করিলে দেখা যায় প্রতি ৪০ কোটিরও অধিক জীবানু অবস্থান করে । খাদ্য কনা ভালোভাবে কুলকুশা করিলেই ধুইয়া যাইবে কিন্তু ডেন্টাল ব্লক জীবাণু ফুলে পাঠালো বলে কেবল ব্রাশ ব্যবহার করেই দ্রবীভূত হইতে পারে দন্তশাস্ত্রে দাঁতের দুইটি প্রধান সমস্যা দন্তক্ষয় ও নারী সংক্রান্ত রোগ নিয়ে আলোচনা করে এই দুটি রোগের সৃষ্টিতে জীবাণু পড়লে পেয়ে ধ্বংসকারী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখদার থেকে ইহা দূরে রাখিতে পারিলে বহু মূল্যবান দাঁত বেঁচে যাইত এবং বহু মানুষ যন্ত্রণা থেকে নিশ্চিত পাইতো দন্ত ক্ষয় রোগের জীবাণু একটি অন্যান্য উপাদানের ভূমিকায় ক্যারিজ এর সৃষ্টি করে এবং উহার ব্যাপারে বোঝাও বোঝানো অত্যন্ত জটিল সাধারণভাবে বলা যায় যে, জীবাণু পলেপে বিদ্যমান জীবানু গুলির মধ্যে এসি তৈরি করিতে সক্ষম জীবাণু বলে বের বাকি দাঁতের গায়ে লাগিয়ে থাকা তিনিও শর্করা জাতীয় খাদ্য কণাকে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে তাইভাবে এসেছি করে ওই এসির দাঁতের এনামেল জৈবিক পদার্থগুলোকে ভেঙে দেয় । তদুপরি জীবাণু নিষ্কৃত কর্তৃপয় প্রোটিন বা আমেজ দাঁতের জৈব বস্তুর ক্রয় সাধন করে প্রাপ্তির ফলে দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এভাবে কয় প্রকার এনামেল থেকে ডেন্টিনের এবং কালক্রমে দন্তশ্বাস বা ঘায়ে প্রসারিত হয় । কোন কোন লোকের দাঁতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকিতে পারে উপরে বর্ণিত আলোচনায় দেখা যায় যে দন্তক্ষয় রোগ সৃষ্টিতে নিম্নলিখিত তিনটি উপাদানের মিলিত সংযোগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ।
১। জীবাণুর প্রলেপ ।
২। শর্করা বা চিনি জাতীয় খাদ্যের উপস্থিতির ।
৩। দন্তবস্তু দন্ত ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে অক্ষম দন্তবস্তু ।
চিনি জাতীয় আঠালো খাদ্যকে দন্ত ক্ষয় রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ বলে আখ্যায়িত করা হয় । তবে কত বেশি খাওয়া হয় তার চেয়ে কত ঘন ঘন খাওয়া হয় তার ওপরে এই রোগের প্রবণতা ব্যাপকতা বেশি নির্ভরশীল । তাছাড়া উপরে উল্লেখিত তিনটি উপাদানের মিলিত ক্রিয়ার সমায়কাল দন্ত ক্ষয় রোগ সৃষ্টি বা বিস্তারের একটি পূর্বশর্ত । দাঁতের উপর জীবাণু বা খাদ্য বস্তু অবস্থান স্বল্পকালীন হইলে দন্তক্ষা রোগ হইতে পারে না । এজন্য আহারের পরে দাঁত পরিষ্কার করা একান্ত প্রয়োজন । যারা দন্তক্ষয় রোগ বা ক্যারিজ রোগে আক্রান্ত হইয়াছে এবং কালো দাগ পড়ে ছোট গর্তে পরিণত হয়েছে তাহারা অতি তাড়াতাড়ি যে কোন ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়ে দ্বন্দ্ব চিকিৎসকের দ্বারা পরামর্শ নিয়ে দাঁতের এনামেলের কালো দাগ ও গর্তকে ভালো করে পরিষ্কার করে ফিলিং বা গর্ত পূরণ করে নেয়া উচিত।
☸️(মাসিক চিকিৎসা বিষয়ক পত্রিকা হইতে সংকলিত )
👉চিকিৎসা
দন্ত চিকিৎসকের সাহায্যে দাঁতের মধ্যে সৃষ্ট গর্ত যত তাড়াতাড়ি পারা যায় ফিলিং কইরা লইতে হইবে ।
যদি দাঁতের অবস্থা খারাপ হয় কিংবা বারবার আক্রান্ত হওয়া দাঁতের গোড়া দুর্বল হয় তবে দ্বন্দ্ব চিকিৎসকের সাহায্যে হাত তুলে ফেলাই উত্তম ।
১। দাঁতের গোড়ায় Infection এর জন্য Antibitic খাইতে দিতে হবে- Doxycycline যুক্ত ঔষুধঃ
Cap. Servidoxyne 100mg. বা, Tab. Megadox 100mg. বা, Cap. Doxin 100mg. বা, Cap. Doxicap 100mg. বা, Cap. Doxy-A 100mg. ইত্যাদি।
মাত্রাঃ প্রথমে দুটি এবং পরে প্রতিদিন একটি করিয়া অথবা সকালে এবং বৈকালে একটি 7/10 দিন ।
অথবা,
🔯Amoxycillin যুক্ত ঔষুধঃ
Genamox 250/500mg.500mg. বা, Navamox 250/500mg. বা, Cap. Dopen 250/500mg. বা, Cap. Tycil 250/500mg.
২। ব্যথার জন্য Rofecoxib যুক্ত ঔষুধঃ
Tab. Ribo 25mg. বা, Tab. Rofecox 25mg. বা, Tab. Roxib 25mg.
মাত্রাঃ দিনে একবার বা কঠিন অবস্থায় দিন দুই বার ।
৩। Ascorbic Acid (এসকোরবিক এসিড) যুক্ত ঔষুধঃ
Tab. Neutravit-C বা, Tab. Ascoson. বা, Tab. Ascobex. বা, Tab. Ascovit.
মাত্রাঃ এক বড়ি করিয়া দিনে ২-৩ বার চুষিয়ে খাইতে হইবে ।
👉পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা
🔯 শক্ত খাবার না খাইয়া নরম খাবার খাইবে
🔯 প্রত্যহ ভাত ও মিষ্টি জাতীয় কিছু খাইলে ভালোভাবে কুলকুচা করিবে ।
🔯 দাঁত Scaling কুরিয়া লওয়া উত্তম ।
🔯 দাঁতের ফাঁকে যেন কোন খাবার জিনিস লাগিয়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখিতে হইবে ।
🔯 নড়া দাঁত উঠাইয়া ফেলিতে হইবে ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করিবে।
আরো জেনে নিন👇
👉দাঁতের গোড়ায় প্রদাহ বা পাওড়িয়া
👉মাড়িতে ফোঁড়া এর ঔষুধ ও চিকিৎসা
👉জিহ্বা প্রদাহ বা ঘা এর ঔষুধ ও চিকিৎসা
👉গলাভাঙ্গা বা গলার স্বর বসে যাওয়ার কারন ও চিকিৎসা

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন